বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে রূপপুর, গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের ভৌত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনার পর ‘পাওয়ার স্টার্ট’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রাথমিক ধাপের অনুমতি দিয়েছে। এই পর্যায়ের মাধ্যমে চুল্লির ক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বছরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধাপের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু এবং সংশ্লিষ্ট ভৌত পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হয়েছিল। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শুরুর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে বিশেষ অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। সবশেষ প্রাপ্ত অনুমোদন অনুযায়ী এখন পাওয়ার স্টার্ট পর্যায়ে খুব কম মাত্রায় শক্তি উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে চুল্লির সক্ষমতা বাড়িয়ে টারবাইন, জেনারেটর, শীতলীকরণ ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

প্রকল্পের সক্ষমতা যখন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হবে, তখন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে জেনারেটর যুক্ত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এর আগে নিরাপত্তা ভালভে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সাময়িকভাবে পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় সেই সমস্যা নিরসনের পর গত ৮ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন মিলেছিল। এর ধারাবাহিকতায় এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে যাত্রা শুরু হলো।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে, যা পুরোপুরি চালু হলে মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হওয়ার কথা থাকলেও পরে এর মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান হ্রাসসহ বিভিন্ন কারণে এর ব্যয় বেড়ে এখন প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদনের পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে আরও সময় প্রয়োজন। পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সব পরীক্ষা শেষে যথাযথ ছাড়পত্র পাওয়া গেলেই কেন্দ্রটি পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।