ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর দায়ের করা একটি মামলার জেরে তাকে নিয়মিত হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা হয়েছে। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন এবং অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে পিটিশন মামলা করেন সানায়া চৌধুরী।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের নভেম্বরে, যখন সানায়া চৌধুরী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর গুলশানে অবস্থিত সানায়ার ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও থেকে একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তিশা, যার মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেননি। পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর শাড়িটি ফেরত চাইলে তিশা ফেসবুক মেসেঞ্জারে সানায়াকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৯ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন বাদী সানায়া আনাম। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে।
সেই মামলার তদন্তের সময় পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করলে বাদী গত ২৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে নারাজি জানান। এরপর আদালত প্রতিবেদনটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বাদী সানায়ার ভাষ্যমতে, মামলাটি দায়ের করার পর থেকেই তিশা তাকে তা প্রত্যাহারের জন্য নানামুখী চাপ দিচ্ছেন। গত ৭ নভেম্বর তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি যদি তোমার পিছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না।’ এছাড়াও বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় তাকে হেনস্তা করা হয়েছে।
বাদী জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন আসামি পক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বর্তমানে সানায়ার স্টুডিওতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পাঠিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে দেশ ত্যাগের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ও থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে আইনি সুরক্ষা পেতে তিনি এই নতুন পিটিশন মামলাটি করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। বর্তমান ঘটনাস্থলে অজ্ঞাত লোক পাঠিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং বাদীকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

