সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা: চ্যাটজিপিটির তথ্যে গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের সাবেক প্রেমিকাকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের ভয়াবহ পরিকল্পনা করার অভিযোগে ড্যারেন ঝো নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ড্যারেন ঝো ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসে বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন বন্দি থাকার পর এক লাখ ডলারের মুচলেকায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ড্যারেন ঝোর দীর্ঘদিনের কথোপকথনগুলো কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং মাসের পর মাস ধরে তিনি সেখানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সহিংসতার পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঝো চ্যাটজিপিটিকে জানান যে, তিনি ফুল হাতে তার সাবেক প্রেমিকার জিমের পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করবেন এবং সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর প্রস্তাব দেবেন। তবে এই পরিকল্পনার মাত্রা আরও ভয়ংকর রূপ নেয় যখন তিনি তরুণীকে জিম্মি করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে নির্যাতনের ছক কষেন। এমনকি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী যদি এতে হস্তক্ষেপ করে, তবে তাদের ওপরও হামলা চালানোর পাশাপাশি তরুণীর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকিও ওই কথোপকথনে উঠে আসে।

গ্রেপ্তারের মাত্র ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে ঝোর এই ভয়ংকর কথোপকথনের বিষয়ে সতর্ক করে। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের একজন ডেপুটি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে তারা চ্যাটজিপিটির প্রায় দুই মাসের চ্যাট হিস্ট্রি বা কথোপকথনের ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

তদন্তের খাতিরে ২১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গেও কথা বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তরুণী জানান, ড্যারেন ঝোর অস্বাভাবিক, সন্দেহবাতিক এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণেই তিনি সম্পর্কটি শেষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঝোর উগ্র আচরণে এতটাই আতঙ্কিত ছিলেন যে, সামনাসামনি কথা না বলে তিনি ফোনেই বিচ্ছেদের কথা জানিয়েছিলেন। এরপরও ঝো ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ক্রমাগত হয়রানি করতে থাকেন। অন্য পুরুষদের নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন করা এবং তরুণী দ্রুত নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগও করতেন তিনি। প্রমাণ হিসেবে তরুণী এসব কথোপকথনের স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে তরুণী ঝোর ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নতুন নতুন ভুয়া নম্বর থেকে ঝো যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। বর্তমানে ড্যারেন ঝোর বিরুদ্ধে গুরুতরভাবে অনুসরণ বা হয়রানি করা (স্টকিং), লিখিতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।