২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনাল: স্পেন ও মরক্কোর লড়াইয়ে ফিফার নীরব অবস্থান

২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি কোন দেশে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আয়োজক দেশ স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক হিসেবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করলেও ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে দুই দেশের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। তবে এই বিতর্কিত পরিস্থিতির মাঝেও ফিফা এখনো কোনো পক্ষকে বাড়তি সুবিধা দেয়নি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সঠিক সময়েই চূড়ান্ত ভেন্যু ঘোষণা করা হবে।

মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লাকজা বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, বেনস্লিমানে নির্মাণাধীন ‘হাসান টু স্টেডিয়াম’-এ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। মরক্কোর এই দাবির পেছনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে স্টেডিয়ামটির বিশাল আয়তন। নির্মাণ কাজ শেষ হলে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। ২০২৭ সালের শেষ দিকে স্টেডিয়ামটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং লাকজা আশা করছেন, মরক্কো ফাইনালে খেলার সুযোগও পাবে।

অন্যদিকে, স্পেনও ফাইনাল আয়োজনের অধিকার ছাড়তে নারাজ। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজানের মতে, বর্তমান ফুটবলের মানদণ্ডে স্পেনই সেরা এবং ফাইনাল আয়োজনের দাবিদার তারাই। তাদের হাতে রয়েছে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং সংস্কারাধীন বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়াম, যার সম্ভাব্য ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার। লুজানের দাবি, অবকাঠামোগত সক্ষমতায় স্পেন কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই।

ফাইনাল নিয়ে এই লড়াইয়ের মাঝে রাজনৈতিক গুঞ্জনও ডালপালা মেলছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মরক্কোর সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। এমনকি ইনফান্তিনোর নির্বাচনি সমর্থনের বিনিময়ে মরক্কোকে ফাইনাল পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ফিফার হাতেই রয়েছে, ফলে এখন পর্যন্ত এই লড়াইয়ে কেউই নিশ্চিত বিজয়ী নয়।