পাকিস্তান ক্রিকেটকে তামাশায় পরিণত করেছে পিসিবি, ক্ষুব্ধ নাসের হুসেইন

একটি দুর্দান্ত ক্রিকেটীয় দেশ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান বর্তমানে ভুল পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন। ইংল্যান্ড সফরে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মাঠের বাইরের অস্থিরতা। দুই টেস্টে শোচনীয় হারের পর সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং টেস্ট কোচ পরিবর্তনের মতো ঘটনাগুলোকে নাসের হুসেইন ‘হাস্যকর ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

স্কাই স্পোর্টসের ক্রিকেট পডকাস্টে নাসের হুসেইন বলেন, হেডিংলিতে হারের পর পুরো বিশ্ব পাকিস্তানকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল না। তবে লর্ডস টেস্টের পর পিসিবি যে ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে তারা নিজেরাই নিজেদের হাসির পাত্রে পরিণত করেছে। বিশেষ করে ইমাম-উল-হকের ইনজুরি নিয়ে হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদের টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। নাসেরের মতে, একজন পরিচালক এভাবে নিজের খেলোয়াড়কে ছোট করতে পারেন না। অন্য দলগুলো যেখানে চোট নিয়ে পেশাদার আচরণ করে, সেখানে পাকিস্তানের এই পরিস্থিতি একেবারেই হাস্যকর।

এদিকে পাকিস্তানের সাবেক কোচ জেসন গিলেস্পিও বর্তমান বোর্ডের কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত বছর তাঁর অধীনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতা পাকিস্তান এখন চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। গিলেস্পির অভিযোগ, নির্বাচকরা প্রতিদিন নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছেন, যা অনেকটা অন্তর্বাস বদলানোর মতো। তিনি আরও দাবি করেন, আকিব জাভেদ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগের কোনো বালাই নেই। অনেক ক্রিকেটার টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে নয়, বরং পরিবার বা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে তাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আলি আগাকে পরের ম্যাচেই বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গিলেস্পি। বর্তমান ব্যবস্থাপনায় খেলোয়াড়রা এক ধরনের ভয়ের মধ্যে খেলছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে পাকিস্তান বর্তমানে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টেও তাদের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

পিসিবির এই অগোছালো কার্যক্রমে পাকিস্তান ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। মাঠের ব্যর্থতা ছাপিয়ে এখন পিসিবির অদূরদর্শী সিদ্ধান্তগুলোই বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইনজুরি নিয়ে অন্য দলগুলোর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পাকিস্তানের আচরণের তুলনাও টেনে নাসের বলেন, ‘অন্য সফরকারী দলের কোনো খেলোয়াড়ের চোট নিয়ে প্রশ্ন করলে সাধারণত আপনি সরাসরি উত্তর পান যে, তার স্ক্যান হয়েছে, প্রয়োজন হলে সে ব্যাট করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খেলাটাইকেই তামশা বানিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলি আগা ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে পেস বোলিং কোচ উমর গুলসহ দুজন কোচকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লর্ডসে আমার হতাশার কারণ ছিল তাদের লড়াইয়ের অভাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের উপহাস করার জন্য নয়, বরং একটি দুর্দান্ত ক্রিকেটীয় দেশ ভুল পথে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা বোঝাতেই আমি বলেছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু লর্ডস টেস্টের পর পিসিবি এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, যা দেখে হতবাক হওয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই।