গলায় মাছের কাঁটা আটকে যাওয়া যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। তবে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যাটি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, কারণ এই বয়সের ব্যক্তিরা দ্রুত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বা কাজের ব্যস্ততায় অসতর্ক থাকেন। সাধারণত ০.৫ থেকে ৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের কাঁটা আটকে যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। রুই, ইলিশ, তেলাপিয়া, পুঁটি বা গুলশার মতো মাছের কাঁটা গলার ভেতর, জিভের গোড়ায় বা ফ্যারিংসে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন নজিরও রয়েছে যেখানে একজন রোগীর গলায় দীর্ঘ ৯ মাস পর্যন্ত কাঁটা আটকে ছিল। ঘাড়ের ব্যথার উৎস খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসকরা কাঁটার অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। যদিও দীর্ঘ সময় কাঁটা আটকে থাকা বিরল, তবুও অবহেলা করা বিপজ্জনক। সাধারণত কাঁটা আটকে থাকলে অস্বস্তির কারণে রোগী দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। বিশেষ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, নকল দাঁত ব্যবহারকারী, সেরেব্রাল পালসি বা মাসকুলার ডিস্ট্রফিতে আক্রান্ত রোগী এবং যারা দ্রুত খাবার খান।
২) গলায় কাঁটা বিঁধলে ভাত খেয়ে নামাতে চান? তাহলে এক কাজ করুন, সাদা ভাত গেলা ২-৩ বার ভাত গিলে দেখুন। ভাতকে ছোট ছোট বল বানিয়ে পানি দিয়ে গিলে ফেলুন। মনে রাখবেন, ভাতের গোলা চিবিয়ে খেলে কিন্তু কাঁটা নামবে না, পানি দিয়ে গিলে ফেলাই সেরা উপায়।
৩) ভাত খাবার চাইতেও সহজ একটি উপায় আছে। গলায় কাঁটা বিঁধলে একটি পাকা কলা খেয়ে ফেলুন। কলা পিচ্ছিল হওয়ায় এটি কাঁটাকে গলা দিয়ে নামাতে সাহায্য করে। বড় কামড় দিয়ে কিছুক্ষণ মুখে রেখে গিলে ফেলুন, দেখবেন কাঁটা নেমে গেছে আর আপনি টেরও পাননি।
৪) এক টুকরো লেবু নিন, তাতে একটু লবণ মাখিয়ে চুষে চুষে লেবুর রস খেয়ে ফেলুন। লেবুর অ্যাসিডিক উপাদান কাঁটাকে নরম করে নামিয়ে দিতে সাহায্য করে। ৫) পানির সাথে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে পান করলেও ঠিক লেবুর মতই কাজ হবে। ৬) গলায় বিঁধেছে কাঁটা? একটু অলিভ অয়েলও পান করতে পারেন। এটি গলার ভেতর পিচ্ছিলতা তৈরি করে, ফলে কাঁটা সহজে নিচে চলে যায়।
৭) গলায় কাঁটা নামানোর আধুনিকতম পদ্ধতি হচ্ছে কোকাকোলা। এক গ্লাস কোক পান করে ফেলুন, এতে থাকা উপাদান কাঁটা নরম করে নামিয়ে দিতে সহায়তা করে। এছাড়া কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে গড়গড়া করলে গলার পেশি রিল্যাক্স হয়ে কাঁটা আলগা হতে পারে। জিভের পেছনে কাঁটা থাকলে জোরে কাশি দিলেও অনেক সময় তা বের হয়ে আসে।
গলায় কাঁটা আটকে গেলে কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। গলার ভেতরে আঙুল বা অন্য কিছু ঢোকানো যাবে না। বারবার গলার নড়াচড়া বা গিলতে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। বিড়ালের পা ধরা বা ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কার থেকে দূরে থাকুন। যদি ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাজ না হয় বা তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, গলার ভেতর ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত লালা ঝরা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও খাবার গিলতে অসুবিধার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান।
অনেক সময় মনে হয় গলায় কাঁটা আটকে আছে, কিন্তু সেটি নামার পরও অস্বস্তি থেকে যায়। এ ধরনের ক্ষেত্রে বারবার ঢোক গেলার চেষ্টা করুন ও ব্যথার উৎস নির্ধারণ করুন। যদি সন্দেহ থাকে, তবে দেরি না করে পরীক্ষা করান। কারণ বেশি সময় কাঁটা গলায় থাকলে ইনফেকশন বা বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মাহমুদ উল্লাহ ফারুকী, এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (ইএনটি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ও হেড-নেক সার্জন হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পার্কভিউ হাসপাতালে কর্মরত আছেন।

