ঢামেক আধুনিকায়নে ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

দেশের চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসাশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণে ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ দেশের চিকিৎসাশিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে অতিরিক্ত রোগীর চাপ, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি বছরই এর কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ঢামেকে আধুনিক একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ও শিক্ষকদের আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার অবকাঠামো উন্নত হবে এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে ঢামেক ক্যাম্পাসে প্রায় ৬০টি পুরোনো ও নতুন ভবন রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ২ হাজার ৬০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার রোগী সেবা নিতে আসায় বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে ৩০০ আসনের চারটি লেকচার থিয়েটার এবং দুটি পরীক্ষা কক্ষ থাকবে। এছাড়া ৮০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সংকট নিরসনে ১৫ তলাবিশিষ্ট ছাত্র হোস্টেল এবং শিক্ষকদের জন্য ১৫ তলাবিশিষ্ট কোয়ার্টার ভবন নির্মাণ করা হবে। ক্যাম্পাসে ৮০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য চারতলা মসজিদ নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার হাইড্র্যান্ট ব্যবস্থা, আধুনিক লিফট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজায়নের ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয়ে সৌরবিদ্যুৎ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী এমবিবিএস ও পোস্টগ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। পুরোনো হোস্টেলগুলোর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ডা. ফজলে রাব্বি হলের একাংশ পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় নতুন হোস্টেল নির্মাণকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের আওতায় ডা. ফজলে রাব্বি হল ও এর আশপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কের উন্নয়নও করা হবে। সামগ্রিকভাবে এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম দেশের চিকিৎসা খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।