ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি দিল ইরান

ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ইরানের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ’-এর পরিচালক মোহাম্মদ বাজ্জি জানান, উভয় দেশের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই প্রণালী ব্যবহারের জন্য ইরানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। বাজ্জির মতে, এই প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে ইরান মূলত আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন করতে চাইছে। একই সঙ্গে নিজেদের জোটকে শক্তিশালী করা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান জাহির করাই তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করতে দেয় না, তাদের পুরস্কৃত করার কৌশলও এর পেছনে কাজ করছে।

বাগদাদের বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান বেশ জটিল। বাজ্জি ব্যাখ্যা করেন, ইরাকের নতুন সরকার ওয়াশিংটন কিংবা তেহরান—কাউকেই অসন্তুষ্ট করতে চায় না। তারা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে যেখানে যেকোনো একটি পদক্ষেপ যেকোনো পক্ষকে ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে।

গত কয়েক মাসে ইরাক ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। বিশেষ করে ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার ঘটনা এবং এর জবাবে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বর্তমান সিদ্ধান্তটি আঞ্চলিক অস্থিরতা কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই বিশ্লেষিত হচ্ছে।