পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন চমক: এক মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত ‘ত্রিরত্ন’ জোট

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। এই বিশেষ ব্যবস্থাকে অনেকেই ‘ত্রিরত্ন’ জোট হিসেবে অভিহিত করছেন। অতীতে এলজিআরডি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো বিভাগগুলোতে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে এমন ‘ট্রিপল পাওয়ার’ বা তিনজনের নেতৃত্বের ঘটনা এবারই প্রথম।

এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে টানা এক বছর তিনি নিউইয়র্কে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। তবে এই দীর্ঘ সময়ে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছেন না। বিশ্বমঞ্চে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি পুনরায় ঢাকার দপ্তরে ফিরে আসবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ঢাকার কূটনৈতিক কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্যই সরকার এই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে। এখন থেকে শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং অভিজ্ঞ সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে একজন দাপ্তরিক নথিপত্র ও প্রশাসনিক ফাইল সামলাবেন, অন্যজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিংয়ের কাজ পরিচালনা করবেন।

এদিকে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণা নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৭৫ জন উপাচার্য জাতীয় সংলাপে অংশ নিয়েছেন। এই সংলাপে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেন যে, গবেষণা ছাড়া শিক্ষার প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নতুন কৌশল কূটনীতিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং এক ঢিলে দুই পাখি মারার এই দূরদর্শী পরিকল্পনা দেশের জন্য কী ফলাফল বয়ে আনে, তা এখন দেখার বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক মন্ত্রণালয়ে ৩ জন বস—এমন তাজ্জব করা ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনো দেখেছেন।