এশিয়া কাপের আগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন হারমানপ্রীত কৌর

আসন্ন এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর জানিয়েছেন, এই লড়াইয়ের চাপ অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। ফাতিমা সানার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ভারত তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা ভারত আগামী ৫ সেপ্টেম্বর তাদের শেষ লিগ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের পরিসংখ্যান বেশ উজ্জ্বল; এখন পর্যন্ত ১৭টি ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতেই জয় পেয়েছে ভারত, যার মধ্যে সর্বশেষ চারটি ম্যাচও রয়েছে।

ম্যাচের বাড়তি চাপ ও প্রত্যাশা

  • সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হারমানপ্রীত বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের যে পরিমাণ চাপ, তা অন্য কোনো ম্যাচে অনুভূত হয় না।
  • তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়মিত খেললেও এই ম্যাচের আবহে ভিন্নতা থাকে। শুধু ক্রিকেট ভক্তরাই নয়, প্রতিটি ভারতীয় এই ম্যাচটি দেখার অপেক্ষায় থাকেন, যা এই লড়াইটিকে সবার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
  • অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বিষয়টিকে সহজ রাখার চেষ্টা করেন এবং কেবল নিজেদের লক্ষ্য ও রুটিনের ওপর মনোযোগ দিতে পছন্দ করেন।
  • হারমানপ্রীতের মতে, ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে বর্তমান মুহূর্তে সেরাটা দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ভারত এশিয়া কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল, যারা এখন পর্যন্ত সাতবার শিরোপা জিতেছে—যার মধ্যে চারটি ওয়ানডে ফরম্যাটে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। তবে গতবার শ্রীলঙ্কার কাছে ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল তাদের। হারমানপ্রীত মনে করেন, বর্তমান দলটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং তারা টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৫-এর জয় এবং লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম নারী টেস্ট জয়ের স্মৃতি তাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

সাফল্যের ধারা ও বিশ্বজয়

  • গত ৪-৫ বছরে ভারতীয় নারী দল দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে এবং বড় বড় দলকে হারিয়েছে।
  • দলীয় সংস্কৃতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রত্যেকেই ম্যাচ এবং টুর্নামেন্ট জয়ের উপায় নিয়ে আলোচনা করে, যা খেলোয়াড়দের সবসময় উজ্জীবিত রাখে।
  • ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভারত প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় করে।
  • ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে তারা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পর তৃতীয় দেশ হিসেবে পুরুষ ও নারী উভয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে।
  • দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্ট লড়াই করলেও ভারতীয় বোলারদের সামনে তারা টিকতে পারেনি।
  • বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আগে ভারত টানা তিনটি ম্যাচ হেরেছিল, কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেটকে চমকে দিয়েছিল।

হারমানপ্রীত কৌর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই টুর্নামেন্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পুরো দল মিলে আবারও দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনবে। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই জয়ের প্রত্যাশা করছি। আমাদের দল খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। লর্ডসের জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে এবং আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো দলগতভাবে খেলে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়া এবং এশিয়া কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করা। দলের প্রতিটি সদস্য এখন জয়ের মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুত।”