ম্যানচেস্টার সিটি থেকে মিশরীয় আন্তর্জাতিক ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশকে দলে ভিড়িয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। ২৭ বছর বয়সী এই তারকাকে এক মৌসুমের জন্য ধারে আনা হয়েছে, তবে চুক্তিতে পরবর্তীতে তাকে স্থায়ীভাবে কিনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উত্তর লন্ডনের ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে মারমুশ নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এখানে আসতে পেরে দারুণ লাগছে। দলের সঙ্গে কাজ শুরু করার জন্য আমি অত্যন্ত উত্তেজিত এবং সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।”
নতুন চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য
টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার বিষয়ে মারমুশ আরও বলেন, “টটেনহ্যাম হটস্পার ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ক্লাব, এমনকি বিশ্বেরও অন্যতম সেরা। এখানকার প্রজেক্টটি আমার কাছে খুবই আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। আমি প্রধান কোচের সঙ্গে কথা বলেছি, তার পরিকল্পনা আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি নিশ্চিত যে খেলার প্রতি আমাদের আবেগ একে অপরের সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যাবে।”
ম্যানচেস্টার সিটিতে মারমুশের সময়কাল
মারমুশ ম্যানচেস্টার সিটিতে ১৮ মাস কাটিয়ে টটেনহ্যামে যোগ দিলেন। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে থাকাকালীন ৬২টি ম্যাচে তিনি ১৬টি গোল করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি প্রিমিয়ার লিগে দ্রুত প্রভাব ফেলেন। ফেব্রুয়ারিতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের জয়ে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন এবং বোর্নমাউথের বিপক্ষে গোল করে প্রিমিয়ার লিগ গোল অফ দ্য সিজন পুরস্কার জিতেছিলেন। গত মৌসুমে তিনি সিটির হয়ে কারাবাও কাপ ও এফএ কাপ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন।
কোচ রবার্তো ডি জেরবির মূল্যায়ন
টটেনহ্যামের কোচ রবার্তো ডি জেরবি মনে করেন, মারমুশের গতি ও বুদ্ধিমত্তা দলের আক্রমণভাগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “ওমর ঠিক সেই ধরনের খেলোয়াড় যাকে আমরা ক্লাবে দেখতে চাই—উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ক্ষুধার্ত এবং পার্থক্য গড়ে দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সে আমাদের আক্রমণে গতি ও বুদ্ধিমত্তা যোগ করবে এবং আমি বিশ্বাস করি সে আমাদের খেলার মান আরও বাড়িয়ে দেবে।”
মারমুশের ক্যারিয়ারের পথচলা
- কায়রোতে জন্ম নেওয়া মারমুশ তার পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ওয়াদি দেগলা ক্লাবে।
- ২০১৭ সালে তিনি জার্মান ক্লাব উলফসবার্গে যোগ দেন।
- সেন্ট পাউলি ও স্টুটগার্টে ধারে খেলার পর তিনি উলফসবার্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- পরবর্তীতে আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে ৬৭ ম্যাচে ৩৭ গোল এবং ২০টি অ্যাসিস্ট করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য
২০২১ সালে মিশরের হয়ে সিনিয়র আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়ার পর থেকে মারমুশ জাতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন। তিনি এখন পর্যন্ত ৫৫টি ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন। তিনি ২০২১ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মিশরকে পৌঁছাতে সাহায্য করেছেন এবং তিনবার এই টুর্নামেন্টে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়া, এই গ্রীষ্মে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চেও তিনি মিশরের হয়ে মাঠে নেমেছেন।

