সংগীতের সঙ্গে ধর্মকে গুলিয়ে ফেলা ভয়ঙ্কর: সাবিনা ইয়াসমিন

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন আজ তার জন্মদিন পালন করছেন। পরিবারের আদরের ছোট সন্তান হিসেবে শৈশবে দুরন্তপনায় কেটেছে তার সময়। সংগীতের প্রতি তার অনুরাগ জন্মেছিল বড় দুই বোন ফরিদা ইয়াসমিন ও নিলুফার ইয়াসমিনের গানের তালিম দেখার মধ্য দিয়ে। খেলার ছলে বড় বোনদের ওস্তাদের কাছে বসার অভ্যাস থেকেই তিনি সুরের জগতে প্রবেশ করেন। বিশেষ এই দিনে নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি জানান, পরম করুণাময়ের কৃপায় তিনি বেশ ভালো আছেন। জন্মদিনের প্রথম প্রহরেই নিজের দুই ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে তিনি শুভেচ্ছা পান, যা তার কাছে অত্যন্ত আনন্দের। এছাড়া দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্তের ভালোবাসায় তিনি আপ্লুত হন।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বাবা-মায়ের সান্নিধ্য পেলেও সংগীত জীবনের সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন তার মা। মায়ের হাতের রান্নার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মুঘল ডিশ থেকে শুরু করে সাধারণ পোড়া বেগুন ভর্তা পর্যন্ত—সবকিছুই মায়ের হাতের জাদুতে অমৃত হয়ে উঠতো। বোনদের মধ্যে নিলুফার ইয়াসমিনের সঙ্গে তার সখ্য ছিল সবচেয়ে বেশি, কারণ তারা ছিলেন পিঠাপিঠি বোন। মায়ের মৃত্যুর পর বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন তাকে মায়ের মতোই আগলে রেখেছেন। সংগীতের এই দীর্ঘ পথচলায় বোনদের অবদান ও ভালোবাসাকে তিনি সবসময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জন্মদিন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এই শিল্পী বলেন, সংগীতের জগতে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকেই জন্মদিন নিয়ে তার মধ্যে বিশেষ কোনো উন্মাদনা কাজ করেনি। তবে অদ্ভুতভাবে অনেক জন্মদিনেই তিনি বিদেশে গানের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকতেন। মা বেঁচে থাকাকালীন জন্মদিনে তার পা ছুঁয়ে সালাম করার স্মৃতি আজও তাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগীতানুষ্ঠান বা কনসার্ট বন্ধের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সাবিনা ইয়াসমিন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি এসব ঘটনার কথা শুনেছি। সংগীতের সঙ্গে ধর্মকে গুলিয়ে ফেলার বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং এটি তার কল্পনারও অতীত। তার মতে, ধর্ম একান্তই ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা, যার সঙ্গে সংগীতের কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়। জীবদ্দশায় এমন পরিস্থিতি দেখতে হবে, তা তিনি কখনোই ভাবেননি।