দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বোহলালে এমফাহলেলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। দেখতে সাধারণ কানের দুলের মতো হলেও, এই ডিভাইসটি মূলত একটি উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লিম্পোপোর এসজে ভ্যান ডার মারভে টেকনিক্যাল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকাকালীন তিনি এই প্রজেক্টটি সম্পন্ন করেন। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান নারী সহিংসতা ও মানবপাচারের মতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এই স্মার্ট কানের দুলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর গোপন ক্যামেরা এবং স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা ব্যবস্থা। বিপদের মুহূর্তে ব্যবহারকারী খুব সহজেই এই ডিভাইসটি সক্রিয় করতে পারেন, যা কোনো প্রকার শব্দ ছাড়াই হামলাকারীর ছবি তুলে সরাসরি পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেবে। এর ফলে ভুক্তভোগী কোনো ধরনের বাড়তি ঝুঁকি ছাড়াই তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ডিভাইসটির এই অনন্য কার্যকারিতা জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমফাহলেলের এই উদ্ভাবনটি দক্ষিণ আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক অন্যতম বড় আয়োজন ‘এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টস’-এ প্রদর্শিত হয় এবং সেখানে এটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। তবে বর্তমানে এটি একটি প্রোটোটাইপ পর্যায়ে রয়েছে। ডিভাইসটিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য এবং বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার জন্য আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। উদ্ভাবক এখন সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন।
তার এই সৃজনশীল কাজের জন্য তিনি দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন। ২০২০ সালে লিম্পোপোর শিক্ষা বিভাগের এমইসি পলি বোশিয়েলো তাকে একজন তরুণ উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এমফাহলেলের এই উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে অভিহিত করেন। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রোটোটাইপটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ পণ্যে রূপান্তর করা, যার জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও উৎপাদন সক্ষমতা।

