গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা শামসুন্নাহার বেগম (৫০) গত দুই বছর ধরে নিজের বসতভিটায় কার্যত অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন। পাঁচ বছর আগে স্বামী আমিরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর থেকে একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম দিপুকে নিয়ে তিনি এই বাড়িতে বসবাস করছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী নূরুল হুদার লোকজন বাড়ির চারপাশে বাঁশ, কাঠ ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চলাচলের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে মই বেয়ে দেয়াল টপকে ঝুঁকি নিয়ে তাদের বাইরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শামসুন্নাহার জানান, বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বাড়ির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মিটার পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বসতভিটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং রাতে বুলডোজার দিয়ে ঘর ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, নিজের বাড়িতেই তিনি এখন বন্দি জীবন যাপন করছেন।
শামসুন্নাহারের ছেলে সাইফুল ইসলাম দিপু জানান, ২০০৫ সালে তার বাবা নিজের উপার্জিত অর্থে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। বর্তমানে ওই জমির উচ্চমূল্যের কারণে প্রভাবশালীরা তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের ওপর কয়েক দফা হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। তারা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি)-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে নূরুল হুদা দাবি করেন, বাড়ির চারপাশের জমি তার মালিকানাধীন, তাই তিনি বেড়া দিয়েছেন এবং মালিকের নির্দেশেই কাজ করছেন। অন্যদিকে, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং মারধরের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তবে রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন তাদের শেষ আশ্রয়টুকু টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আনতেও পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবসময় আতঙ্ক- কখন বুলডোজার এসে ভেঙে দেয় শেষ আশ্রয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন শামসুন্নাহার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই—এভাবে কীভাবে বেঁচে আছি, তা আমরাই জানি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কারণেই প্রভাবশালীদের লোভ পড়েছে বাড়ির ওপর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু মা-বাবার কষ্টে কেনা বসতভিটা আমরা ছাড়ব না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডিসি, এসপিসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেছি, শুধু চলাচলের জন্য একটু রাস্তা চেয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এখনো কেউ কার্যকরভাবে এগিয়ে আসেনি।

