নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’-এর নির্বাচনকে ঘিরে এখন সরগরম কমিউনিটি। সংগঠনটির কার্যকরী কমিটির ২১টি পদের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন ৪৩ জন প্রার্থী। এবার ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ২১৫ জন। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সোসাইটির ইতিহাসে এবারের নির্বাচনকে অন্যতম বৃহৎ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনী লড়াইয়ের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে দুটি শক্তিশালী প্যানেল। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন ‘সেলিম-আলী পরিষদ’ এবং সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন ‘কুনু-ফিরোজ পরিষদ’ পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। কার্যকরী কমিটির ২১টি পদের বিপরীতে এই দুই প্যানেলের ৪২ জন ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় ৪৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর কুইন্স প্যালেসে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আগ্রহীরা। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যাচাই-বাছাই, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, আপিল শুনানি ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। এর আগে সাধারণ সম্পাদক পদে রাব্বী সৈয়দ এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শক্তি ডি গুপ্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে ৪৩ জন প্রার্থীই ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় প্রায় ৩০০ জনের নাম ডাবল রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে গঠনতান্ত্রিক পরিবর্তনের ফলে বেশ কিছু নতুনত্ব এসেছে। কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে এবার ২১টি করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের মেয়াদে পরিবর্তন আনা হয়েছে; আগে কার্যকরী কমিটির মেয়াদ দুই বছর থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে তিন বছর (২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত) করা হয়েছে। তাই প্রবাসীদের কাছে এই নির্বাচনের গুরুত্ব এবার অনেক বেশি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের সকল প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশ সোসাইটির ইতিহাসে এবারের এই বড় নির্বাচনটি অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে এবং প্রবাসীদের মাঝে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।
দুই প্যানেলের জন্যই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটারের একটি বড় অংশকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা। আগামী ২৫ অক্টোবর রাতেই নির্ধারিত হবে আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ সোসাইটির হাল কার হাতে থাকবে। বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, নাকি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কুনু-ফিরোজ পরিষদ ক্ষমতায় আসবে—সেটির অপেক্ষায় এখন পুরো কমিউনিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডাবল ভোট যাতে না হয় এজন্য তাদের চিহ্নিত করে হাইলাইট করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী বাছাই পর্ব শেষ হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ নতুন দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় কার্যকরী পরিষদের পরিধি বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ বর্তমান নেতৃত্বই নতুন মেয়াদের জন্য ভোটারদের ম্যান্ডেট চাইছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই পরিষদের প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ নওশাদ হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ এস এম মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ হোসেন এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কার্যকরী সদস্য পদে রয়েছেন মোহাম্মদ উজ্জ্বল পিপুল, শামীম আহমেদ, সারওয়ার খান বাবু, মোহাম্মদ এ মান্নান, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক খান ও কাজী রবিউজ্জামান।

