নেপালে বন্যা ও হিমবাহ ধস: এখনো নিখোঁজ ৫ হাজার মানুষ

নেপালে হিমবাহ ধস ও পরবর্তী ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ৩১ জনের মৃত্যু এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

২৬ আগস্ট হিমালয়ে হিমবাহ ধসের পর পাথর, বরফ ও পানির প্রবল স্রোতে উপত্যকার জনপদগুলো বিধ্বস্ত হয়। এই বিপর্যয়ের পর থেকে উদ্ধারকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শনিবার রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গের ২২৫ মিটার ভেতর থেকে লু হাইতাও নামে এক চীনা কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী নুয়াকোট জেলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে তার ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে এই দুটি উদ্ধার অভিযানসহ মোট চারটি সফল অভিযানের ফলে সুড়ঙ্গে আটকা পড়া অন্যদের জীবিত পাওয়ার আশা জেগেছে।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বন্যার পানিতে বিধ্বস্ত এক ডজন প্রকল্পের টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ত্রিশুলি ৩এ টানেল থেকে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের আরও গভীরে অনেক শ্রমিক এখনো জীবিত থাকতে পারেন। এখন ওই স্থানটিতেই উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়ার পর ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুসন্ধানকারী দলগুলো উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহে ১৫ সদস্যের একটি অস্ট্রেলীয় ড্রোন ইউনিটও তল্লাশি কাজে যুক্ত হয়েছে। নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের ব্যাপারে আশাবাদী।

হিমবাহ ধসের ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকা বরাবর গড়ে ওঠা শহর ও গ্রামগুলোতে আছড়ে পড়ায় রাস্তাঘাট, স্কুল ও ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় এই অঞ্চলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলের রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলমগ্ন সুড়ঙ্গের ২২৫ মিটার ভেতর থেকে শনিবার লু হাইতাওকে উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পাশাপাশি, পার্শ্ববর্তী নুয়াকোট জেলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে তার ধসে পড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৬ আগস্ট হিমালয়ে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর থেকে তারা দুজনেই আটকা পড়েছিলেন।