প্রাণনাশের হুমকি ও সাইবার আক্রমণের শিকার জেরার্ড জোন্স, মুখ খুললেন সাবেক কোচ

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছেন জেরার্ড জোন্স। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অবস্থান করা এই ইংলিশ কোচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা, নিজের ওপর আসা প্রাণনাশের হুমকি এবং দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

চাকরি হারানোর পরবর্তী সময়ে সাইবার আক্রমণ ও হত্যার হুমকির শিকার হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জোন্স। তিনি জানান, ফুটবলের কৌশল বা পারফরম্যান্স নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করাটা যৌক্তিক হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, তথ্য ফাঁস এবং প্রাণনাশের হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়। জোন্স বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আপত্তিকর বার্তা পেয়েছি, আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সবাই যেন মনে রাখেন, আমি কেবল একজন কোচ নই, আমি একজন স্বামী, বাবা এবং সন্তান।’

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দলের ব্যর্থতা এবং মাত্র ৯ সপ্তাহের প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক ফলাফল অর্জন ছিল না। যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা অন্বেষণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা ছিল আমার। কিন্তু সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সময় ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল।’

অনুশীলন ও মূল ম্যাচের পারফরম্যান্সের পার্থক্যের বিষয়ে জোন্স উল্লেখ করেন, অনুশীলনে যে ফুটবলীয় দর্শন ও নীতিগুলো নিয়ে কাজ করা হয়েছিল, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে খেলোয়াড়রা তার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। মাঠের খেলায় দলটিকে অনেক ক্ষেত্রেই অচেনা মনে হয়েছে। তবে মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে তার দুই দশকের কোচিং ক্যারিয়ারের মূল্যায়ন করাটা অযৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সাফল্য মাত্র দুটি ম্যাচের ব্যর্থতায় মুছে যেতে পারে না।

বাংলাদেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে জোন্স জানান, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়া, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ফুটবল সংস্কৃতি এবং উচ্চপর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সবশেষে তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি। জোন্সের মতে, বাংলাদেশে ফুটবল প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই এবং মানুষের আবেগও অসীম; এখন প্রয়োজন কেবল সঠিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও একটি উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।