বাংলা বর্ণমালার আবহে বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন জার্সি উন্মোচন

মাতৃভাষা বাংলা এবং বর্ণমালাকে মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের নতুন হোম ও অ্যাওয়ে কিট আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে নিয়ে আসে। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় দলের এই নতুন পোশাক তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে দেশীয় ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড ‘দৌড়’।

নতুন হোম জার্সিটি সাদা রঙের জমিনে তৈরি, যার কলার ও দুই পাশে লাল রঙের ছোঁয়া রয়েছে। কাপড়ের ভেতরে ওয়াটারমার্ক হিসেবে বাংলা বর্ণমালার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জার্সির বুকে বাফুফের লোগো এবং লাল রঙে নম্বর মুদ্রিত আছে। এর সঙ্গে খেলোয়াড়েরা পরবেন লাল শর্টস ও সাদা মোজা। অন্যদিকে, লাল ও সবুজ রঙের সংমিশ্রণে তৈরি অ্যাওয়ে জার্সির কাঁধে লাল স্ট্রাইপ এবং সামনের অংশে এমবসড টেক্সচারে বাংলা হরফ ব্যবহার করা হয়েছে। এই কিটের সঙ্গে থাকছে সবুজ শর্টস ও মোজা। জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাবেক অধিনায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে খেলোয়াড়দের বাজার থেকে কেনা জার্সি পরতে হতো, এমন আনুষ্ঠানিকতা আগে কখনো দেখা যায়নি। এই ব্যবস্থার জন্য তিনি বাফুফে সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান।

নতুন এই জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০০ টাকা। দৌড়ের স্বত্বাধিকারী আবিদ আলম চৌধুরী জানান, উন্নত ফেব্রিকের ব্যবহারের কারণে দাম কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ সমর্থকদের জন্য ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে ‘ফ্যান এডিশন’ বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাফুফের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে। বর্তমানে জার্সিগুলো অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে, তবে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সমর্থকদের সুবিধার জন্য অফলাইনে বা শোরুমে জার্সি বিক্রির ওপর জোর দিয়েছেন। বাফুফের সঙ্গে দৌড়ের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ দুই বছর, যার মধ্যে দেড় বছর ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। বাফুফে সভাপতি প্রতি দুই বছর পরপর জার্সির নকশায় পরিবর্তন আনার নীতি গ্রহণ করেছেন।

ফুটবল অঙ্গনে অখ্যাত ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেলেও হামজা ও সামিতদের মতো খেলোয়াড়দের মাধ্যমে ‘দৌড়’ এখন বেশ পরিচিত। বাফুফের মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জার্সি বিক্রির লভ্যাংশ বাফুফেকে নিয়মিত প্রদান করছে দৌড়। এর ফলে আগে জার্সি ক্রয়ে যে ব্যয় হতো, তা এখন সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত খেলার সূচি থাকায় চুক্তির বাইরেও বাফুফেকে কয়েক হাজার জার্সি সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দৌড়ের কর্মকর্তা আবিদ জানান, গত এক বছরে প্রায় ২০ হাজার জার্সি বিক্রি হয়েছে এবং প্রতি মাসে বাফুফেকে রয়্যালিটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাজারে লোগো ব্যবহার করে নকল জার্সি বিক্রির কারণে তাদের ব্যবসায়িক মুনাফা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাফুফের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রসারের পাশাপাশি জাতীয় দলের পোশাকের মানোন্নয়নই মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সামনে আমরা ফ্যান এডিশন করছি যেটা ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাফুফের অনুমোদন পেলে এটা বাজারে ছাড়া হবে।’ দৌড়ের আনুষ্ঠানিক কোনো শেরুম নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবার তারা ইনফিনিটিতে বাংলাদেশের জার্সি রাখবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা চাই অফলাইনে দৌড়ের শো রুম থেকেও যেন সমর্থকরা জার্সি সংগ্রহ করতে পারে।’ বাফুফের সঙ্গে দৌড়ের চুক্তি দুই বছরের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফুটবলাঙ্গনে প্রশ্ন দৌড়ের থেকে বাফুফের প্রাপ্তি কি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বছর শেষে সেটা ভালো অঙ্কই এর পাশাপাশি বিগত সময়ে জার্সি কিনতে যে খরচ হতো সেটাও হচ্ছে না।’।