পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ সম্প্রতি এক মন্তব্যে দাবি করেছেন যে, তাঁর প্রদেশের নিরাপত্তার জন্য বহিরাগত শত্রুর চেয়ে প্রতিবেশী প্রদেশগুলো থেকে আসা হুমকিই এখন বড় উদ্বেগের কারণ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের উৎস কেবল সীমান্ত বা ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পাকিস্তানে চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর উত্থান ও তাদের দীর্ঘমেয়াদী বিকাশের পেছনে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকটের মূল ভিত্তি তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র পরিচালনার ভুল কৌশলের মধ্যেই নিহিত। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করার যে নীতি দেশটি অনুসরণ করেছে, তা আজ তাদের নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে এই ধরনের সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন গভীর রাজনৈতিক সংস্কার ও অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয় যে, বৈষম্যমূলক নীতি ও সামরিক বলপ্রয়োগ দীর্ঘমেয়াদে কেবল বিভাজনই ডেকে আনে। ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের ওপর যে চরম বৈষম্য ও সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত দেশটির বিভাজনের পথ প্রশস্ত করেছিল। সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা থেকে পাকিস্তান এখনো কোনো কার্যকর সমাধান খুঁজে পায়নি, যার ফলে সন্ত্রাসবাদের মতো জটিল সমস্যা আজও তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অস্থির করে রেখেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, সরকার বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে দেশটি প্রায় ২০৪ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। একইসাথে, দেশের শিল্পখাতেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে; বিশেষ করে সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন শর্ত আরোপের ফলে ব্যবসায়ীরা সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা পাকিস্তানের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে আরও নাজুক করে তুলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়ার মতো অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ সেখানকার জনগণ বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় শিকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মূল প্রশ্নটি সীমান্ত অতিক্রমের চেয়েও অনেক গভীর।

