রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন: দুই শতাধিক চেকপোস্ট

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে পল্টনে সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর কিছুটা আগেই কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের নির্জন এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণ চালানো হয়। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য মেলেনি।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীতে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণে এক রিকশাচালক আহত হন, তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ফ্লাইওভারের ওপর থেকে হয়তো ককটেলগুলো ছুড়ে মারা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি মিরপুর-১১ নম্বরে চলন্ত শিকড় পরিবহনের বাসসহ মিরপুর-১ ও বাড্ডায় আরও কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। মিরপুর-১১-এর আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করেছে।

এর আগের দিন শুক্রবারও যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, আগারগাঁও ও মালিবাগসহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে বিস্ফোরণে এক অটোরিকশাচালক আহত হন। নাশকতা মোকাবিলায় ডিএমপি পুরো নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফ্লাইওভার, মোড় ও রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে পিকেট ডিউটি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও এপিবিএনের সদস্যদের কৌশলগত অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৪৭টি মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশের অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, গুলি, দেশীয় অস্ত্র এবং বিস্ফোরিত ককটেল থেকে লোহার পেরেক উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে এবং বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পৃথক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের বাড়তি সদস্য মোতায়েনসহ সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রাথমিকভাবে ফ্লাইওভার থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সন্দেহজনক যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ওপরও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: থানা মোবাইল প্যাট্রোল, ফুট প্যাট্রোল ও হোন্ডা প্যাট্রোল বাড়ানো হয়েছে।