কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মোস্তাক মিয়ার বিস্ফোরক মন্তব্য

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া সম্প্রতি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মুরাদনগর উপজেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ দেবিদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকার প্রকল্প দেখিয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের এডিবি ও রাজস্ব খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ করিয়ে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

শনিবার, ৩০ মে, কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে মোস্তাক মিয়া এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজন করেছিল।

জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এই নেতারা কুমিল্লার মোট ১৭টি উপজেলার মধ্যে মাত্র দুটি উপজেলার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক ছিল।

মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কুমিল্লা জেলা পরিষদের এডিবি ও রাজস্ব খাত থেকে প্রকল্প দেখিয়ে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ তার নিজ উপজেলা দেবিদ্বারের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন।

বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মাত্র দুটি উপজেলার জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার কারণে জেলার অন্যান্য উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তিনি এই ধরনের প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দকে বৈষম্যমূলক বলেও অভিহিত করেন।

মোস্তাক মিয়া আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওই দুটি উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় যেসব প্রকল্পের নামে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে বর্তমানে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলা পরিষদের মাধ্যমে এডিবি বা রাজস্ব খাত থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রকল্পের নামে অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার নিজ গ্রাম মুরাদনগরের আকবপুরে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরের ঘাটলা ও রিটার্নিং দেওয়াল নির্মাণের প্রকল্পের নামে অর্থ বরাদ্দ করিয়েছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এসব বরাদ্দের আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কিনা, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।