ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবের জন্য সামরিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর হওয়া গুরুতর হামলা মোকাবিলায় তুরস্ক দৃঢ়ভাবে রিয়াদের পাশে রয়েছে। বিশেষ করে সামরিক কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনে তুরস্কের পক্ষ থেকে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। সম্প্রতি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানে সংঘাত শুরু হয়, যার একটি নতুন ফ্রন্ট হিসেবে হুতিদের এই আক্রমণকে দেখা হচ্ছে। এই হামলার ফলে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য রপ্তানি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে লড়তে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ওয়াশিংটন দুই মাস হুতিদের ওপর বোমাবর্ষণ করার পর উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, সৌদি আরব এ ধরণের সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চায়। চলমান এই যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা নিরসনের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ওই শান্তি প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি এখনো গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করেননি।

