জাতিসংঘে তারেক রহমান: সাত নেতার সঙ্গে বৈঠক ও ভাষণের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। পাঁচদিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটাবেন। সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন ও টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

রোববার সকালে ঢাকা থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-৭২৫ ফ্লাইটে সফরের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিনি ইস্তাম্বুল হয়ে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে নেয়া হয়। সেখান থেকেই শুরু হবে তার ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি।

সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন এবং অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরদিন ২৩শে সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। একই দিনে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে জোরালো বক্তব্য রাখার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সাতটি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। এর মধ্যে ২২শে সেপ্টেম্বর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগ ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলজ-এমের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। ২৪শে সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফ ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এবং ২৫শে সেপ্টেম্বর কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে তার বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়াও ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গেও বুধবার বৈঠকের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে।

আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন সকালের উচ্চপর্যায়ের সভায় জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অভিযোজনের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করবেন তিনি। একইসঙ্গে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদের বিতর্কে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৫ মিনিট স্থায়ী এই ভাষণে তিনি বিশ্ব শান্তি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন। একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

অর্থনৈতিক কূটনীতি ও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের লক্ষ্যে ২৫শে সেপ্টেম্বর সকালে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মেটার মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ও যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সূচি রয়েছে। সফরের সব কর্মসূচি শেষে ওইদিন রাতেই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। ২৬শে সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ছয় ঘণ্টার যাত্রা বিরতি শেষে ২৭শে সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: তার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানটি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি দেয়। চাকরির আরও তথ্য: পরে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। চাকরির আরও তথ্য: ২৩শে সেপ্টেম্বরও থাকছে একাধিক কর্মসূচি। চাকরির আরও তথ্য: বিকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’— শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন। চাকরির আরও তথ্য: সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি। চাকরির আরও তথ্য: শীর্ষ ৭ নেতার সঙ্গে বৈঠক: নিউ ইয়র্ক সফরে সাত দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চাকরির আরও তথ্য: জাতিসংঘের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বুথে হবে এ বৈঠক। চাকরির আরও তথ্য: জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ৩৪তম তলায় এ বৈঠক হবে।