এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল আসরে বাংলাদেশ দলের যাত্রা শেষ হয়েছে শূন্যতায়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। নাগাই স্টেডিয়ামে ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে স্কোরবোর্ডে দুটি শূন্যই লেখা ছিল। এই ড্রয়ের ফলে এশিয়ান গেমসের এবারের আসর থেকে জয়হীন, গোলহীন এবং পদকহীনভাবেই দেশে ফিরতে হচ্ছে ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুনদের।
মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ, অন্তত একটি জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার। ফিফা র্যাংকিংয়ে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ থেকে ৫২ ধাপ এগিয়ে থাকলেও দলের কোচ পিটার বাটলার ও অধিনায়ক মারিয়া মান্দা ম্যাচটিকে ঘিরে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে মাঠের খেলায় সেই আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ৪৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও আক্রমণে ধার ছিল না বাংলাদেশের।
পুরো ম্যাচে মিয়ানমারের গোলমুখে বাংলাদেশ শট নিতে পেরেছে মাত্র তিনটি। এর মধ্যে একটি শটও ছিল না গোল লক্ষ্য করে, ফলে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষার মুখেই পড়তে হয়নি। উল্টো মিয়ানমার বাংলাদেশের গোলমুখে আটটি শট নিয়েছে, যার দুটি লক্ষ্যে ছিল। তবে গোলরক্ষক রুপনা চাকমার দৃঢ়তায় বড় কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছিল তারা। দুই কোরিয়ার শক্তিশালী আক্রমণের মুখে বাংলাদেশ হজম করেছে মোট ১৬টি গোল। গত আসরের চেয়েও এবারের গোল হজমের পরিসংখ্যান হতাশাজনক। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসেও তিনটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ, সেখানে প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল জড়াতে না পারলেও তারা হজম করেছিল ১৫ গোল। এবারের আসরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে।
প্রথম ম্যাচেই দল গঠন ও কৌশল নিয়ে পিটার বাটলারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। মূল লক্ষ্য ছিল বড় দলের বিপক্ষে কম গোল খাওয়া এবং মিয়ানমারের বিপক্ষে লড়াই করে জয় পাওয়া, কিন্তু তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এশিয়ান গেমসে এটি ছিল নারী ফুটবল দলের দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। টানা দুই আসর একই ফলাফল এবং গোল করতে না পারার ব্যর্থতা প্রমাণ করছে যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের সংগঠিত করা, মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে ওঠার সক্ষমতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় ধরনের উন্নতির জায়গা রয়েছে।
তিনটি ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অর্জনের খাতা পুরোপুরি ফাঁকা। একদিকে আক্রমণে বারবার ব্যর্থতা, অন্যদিকে রক্ষণের অগোছালো ভাব—সব মিলিয়ে গেমস থেকে প্রাপ্তি বলতে কিছুই নেই। চার বছর আগের পরিসংখ্যানের সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা করলে উন্নতির তেমন কোনো লক্ষণও ফুটে ওঠেনি, যা দেশটির নারী ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিপক্ষের জালে একটি গোলও নেই, বিপরীতে নিজেদের জালে ১৬ বার বল জড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবু এই ম্যাচটিকেই ঘিরে ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুরু থেকেই বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে ম্যাচে টিকে থাকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বল দখলের লড়াইয়েও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণকে আক্রমণে রূপ দেওয়ার জায়গাতেই বারবার আটকে গেছে দল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ গোলরক্ষককে পরীক্ষা নেওয়ার মতো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশের আক্রমণভাগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মিয়ানমার অবশ্য তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেষ পর্যন্ত রুপনার ওই সেভগুলোই গোলশূন্য ড্র ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।

