গত ১৩ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার কবলে পড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন। দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে পাইপলাইনটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। রয়টার্সের সাথে সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবারের পর থেকেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে ফের তেল রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সংবাদে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এই পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ইয়ানবু বন্দরের দিকে সরিয়ে নেয়, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৪ শতাংশ। পাইপলাইনটি নতুন করে চালুর পর শুরুতে সীমিত পরিসরে সরবরাহ শুরু হয়েছে। সৌদি আরামকোর একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা ধাপে ধাপে প্রতিদিন ৪০ লাখ ব্যারেল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছেন, যদিও পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে সৌদি আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে এখন লোহিত সাগর উপকূলের আরামকোর শোধনাগারগুলোতে তেল সরবরাহ করা হবে। মঙ্গলবারই ইয়ানবু বন্দর থেকে চীনের উদ্দেশে তেলবাহী প্রথম চালানটি রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, তেল লোডিং শুরু হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরাও তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় পোর্ট সাঈদ ও সিদি কেরির বন্দরে ট্যাংকার পাঠাচ্ছেন। সেখানে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিবহন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কখন এই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, তা তিনি জানাননি।

