যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে আটজনই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ। এপি-এনওআরসির সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ৮২ শতাংশ মার্কিনি জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের ওপর অনাস্থা জানিয়েছেন, যেখানে তার পক্ষে সমর্থন মাত্র ১৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত মেরুকৃত রাজনীতিতে সাধারণত যেকোনো বিষয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের ঐকমত্য পাওয়া কঠিন, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির মতো ইস্যুতে প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিক ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে একাট্টা অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে রয়টার্স-ইপসোস এবং মারকেট ল স্কুলের জরিপেও একই ধরনের চিত্র ফুটে উঠেছিল, যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ১৭ থেকে ১৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এই অসন্তোষ কেবল বিরোধী মতাবলম্বীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের অন্তত ৫০ শতাংশ এবং নিজেকে ‘মাগা’ সমর্থক দাবি করা কট্টর রিপাবলিকানদের ২৯ শতাংশও ট্রাম্পের এই ব্যর্থতার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জরিপের তথ্য বলছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিনি বর্তমান চড়া মূল্যের জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকেই দায়ী মনে করছেন।
মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন জনরোষ বিরল। অতীতে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে ৭৭ শতাংশ এবং ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের উচ্চ বেকারত্ব নিয়ে অসন্তোষ ছিল ৭৪ শতাংশ। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, বুশের ইরাক যুদ্ধ কিংবা রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মতো আলোচিত ঘটনাগুলোতেও জনমতের এত বড় নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। মার্কিন রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশটির অতীতের বহু অজনপ্রিয় যুদ্ধ বা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির চেয়েও ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে জনরোষের মাত্রা বেশি।
এদিকে টাইম ম্যাগাজিনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাধারণ মানুষকে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য তাকে দায়ী না করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এর দায় পূর্বসূরি বাইডেন প্রশাসনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে জরিপের তথ্য অনুযায়ী, তার এই কৌশল জনসমর্থন ফেরাতে ব্যর্থ হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনগণের এই অর্থনৈতিক হতাশা রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।

