মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কেএলসিসি কনভেনশন সেন্টারে সম্পন্ন হলো তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম, আর্টস অ্যান্ড কালচার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স ‘ইনট্যাক ২০২৬’। আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে নিজেদের সেবার পরিধি তুলে ধরতে এই আয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে মালয়েশিয়া সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মাইশা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস এসডিএন বিএইচডি। শুক্রবার শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৫টি দেশের পর্যটন কোম্পানি ও সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন। মোট ১৫৫টি বুথের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আধুনিক পর্যটনসেবা প্রদর্শন করেছে। বাহির থেকে অনেক বড় বড় কোম্পানি এসেছে।
বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং পর্যটন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এম৩৬০ আইসিটি যৌথভাবে দুটি বুথের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলো দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করে। মেলার শেষ দিনে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী প্রদর্শনীটি পরিদর্শনকালে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছে দেশের পর্যটন খাতের প্রচার বাড়াতে এই আয়োজন কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া মালেশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাণিজ্যিক সচিব প্রণব কুমার ঘোষ পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার আন্তর্জাতিক প্রসারে অংশীজনদের সাথে আলোচনা করেন। প্রদর্শনীর শেষ দিনে কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। মেলার শেষ দিনে বাংলাদেশ বুথে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশিরাও ভিড় করেন।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ বুথ পরিদর্শন করেন মালয়েশিয়া পর্যটন বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল আকবাল সেতিয়া। তিনি বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। মেলায় ওপেন স্টেজে বাংলাদেশের পর্যটনবিষয়ক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি দল সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরে, যা দর্শকদের নজর কাড়ে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি মালয়েশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে মাইশা ট্রাভেল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মিন্টু এমডি ইসহাক জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় বড় কোম্পানির উপস্থিতি থেকে তারা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে তারা আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের পর্যটন ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবাকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরাও চাই মালয়েশিয়া থেকে কিছু ইনভেস্টর বাংলাদেশে নিয়ে যেয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ইনভেস্ট করতে পারি।

