আবুধাবি টেস্টে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ

শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিনটি মিশ্র অভিজ্ঞতায় কেটেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর দল বড় সংগ্রহের আভাস দিলেও দিনের শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান তুলেছে। শুরুর দিকটা দারুণ হলেও শেষ বিকেলে ব্যাটিং লাইনআপের বড়সড় ধসের কারণে আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সফরকারীদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও ছিলেন ওপেনার তানজিদ তামিম। মাত্র ৪১ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ১৭ রানের আক্ষেপ নিয়ে তাকে থামতে হয়। পেসার ইসমত আলমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় তানজিদ ৮৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেন। তার সৌজন্যে দলীয় ১২৪ রানে বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায়। অধিনায়কের সেই সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেছেন ওপেনার তামিম।

ওপেনিংয়ে তানজিদের সঙ্গী সাদমান ইসলাম শুরুতে কিছুটা ধুঁকলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে থিতু হন। ব্যক্তিগত ৫ রানে হাশমতউল্লাহ শহিদির হাত থেকে জীবন পাওয়ার পর তিনি সাবলীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ফিফটি। তবে ইনিংসটি বড় করতে পারেননি; মোহাম্মদ সেলিমের শর্ট বলে স্কয়ার লেগে জিয়া-উর-রহমানের ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে সাদমান ৪ চারে ৬৭ রান করেন। দলীয় ১৮৪ রানে এই জুটি ভাঙার পর বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। মাত্র ৫ রানে থাকাবস্থায় তাকে একবার জীবন দিয়েছেন হাশমতউল্লাহ শহিদি। তবে বল একটু পুরোনো হতেই সেট হয়ে যান সাদমান।

মুমিনুল হক ও শান্তর ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন ইয়ামিন আহমদজাই। মুমিনুল ৭০ বলে ৪ চারে ৩৯ রান করে কাভারে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এরপর মাত্র ২ রানের ব্যবধানে মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল শান্ত সাজঘরে ফেরেন। মুশফিক ইয়ামিন আহমদজাইর বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৭ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি। শান্ত বিদায় নেন ৪২ বলে ২৯ রানের ইনিংসে দুটি ছক্কা ও একটি চারের মার মেরে, যাকে আউট করেন কায়েস আহমেদ। সাদমানের বিদায়ের পর ৩৭ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুমিনুল হক। অভিজ্ঞ মুশফিক একদমই অভিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারেননি।

দ্রুত উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে মিরাজ ও লিটন দাস ৬২ রানের একটি জুটিতে দলকে আড়াইশ রানের মাইলফলক পার করিয়ে দেন। দলীয় ২৮৭ রানে ইশমত আলমের বলে মিরাজ ২৪ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরলে এই জুটি বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর লিটন দাস তার ফিফটি পূর্ণ করলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ৮৯ বলে ৪ চারে ৫৩ রান করে তিনি মোহাম্মদ সেলিমের শিকার হন। একই বোলারের বলে হাসান মাহমুদও আউট হলে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ৩০৫ রান। দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে ৬২ রানের জুটি গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং লিটন দাস।

দিনের শেষ ৪ ওভারে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি নাইম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। অবিচ্ছিন্ন ১২ রানের জুটিতে নাইম ১১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। আফগান বোলারদের মধ্যে প্রথম দিন মোহাম্মদ সেলিম ৩টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ইসমাত আলম ও ইয়ামিন আহমদজাই দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন।