অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ নারী দল

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সিরিজ খেলতে গিয়ে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। ব্রিসবেনের মাটিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগ্রেসরা ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—কোনো বিভাগেই অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। এর ফলে ৭ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে লিড নিল অস্ট্রেলিয়া।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই বিপদে পড়ে। দলীয় রানের খাতা খোলার আগেই অভিজ্ঞ ওপেনার ফারজানা হক সাজঘরে ফেরেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ৪৯ ওভার ৪ বলে মাত্র ১৬৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। শারমিন আক্তার কিছুটা লড়াই করার ইঙ্গিত দিলেও ৫ চারে ২৬ বলে ২৪ রান করে অ্যালানা কিংয়ের ক্যাচে পরিণত হন। এছাড়া সোবহানা মোস্তারি ১৭ বলে মাত্র ২ রান করে ব্যর্থ হন। তবে এই জুটিতে রান এগিয়েছে অনেক ধীরগতিতে।

মধ্যভাগে অধিনায়ক নিগার সুলতানা এবং রিতু মনি ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। পঞ্চম উইকেটে তারা ৩৫ রানের একটি ধীরগতির জুটি গড়েন। দলীয় সংগ্রহের হাল ধরে রাখা নিগার সুলতানা ৮৬ বলে ২৯ রান করে ম্যাকগ্রার শিকারে পরিণত হন। দলের পক্ষে রিতু মনি সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন, তবে দলীয় ১৫৯ রানের মাথায় তিনি রান আউটের শিকার হন। শেষদিকে স্বর্ণা আক্তার অপরাজিত ২০ এবং নাহিদা আক্তার অপরাজিত ১৯ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। ফারজানার বিদায়ের পর বাংলাদেশের ১১ রানের মাথায় শারমিন সুলতানা এবং ৩৩ রানের মাথায় শারমিন আক্তারকে সাজঘরে পাঠায় অজিরা। ব্যাট হাতে হাল ধরতে পারেননি সোবনানা মোস্তারিও।

সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিল। অভিষেক হওয়া পেসার হাবিবা ইসলাম পিংকি বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। দলীয় ৩০ রানের মাথায় জর্জিয়া ভলকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে এলিস পেরি এবং ফিবি লিচফিল্ড ৮৯ রানের বড় একটি জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিচফিল্ড ৫৭ বলে ৭৭ রান করে রাবেয়া খানের বলে আউট হন। এরপর পিংকি ১৩ রান করা মুনিকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান।

তবে কোনো চাপই অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি। এলিস পেরি ৪৫ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং তার সঙ্গী সাদারল্যান্ড ২৫ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন। মাত্র ২৫.৪ ওভারেই অর্থাৎ ২৪ ওভার ২ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের বোলাররা এই জুটিকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বড় পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।