শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয়

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ একর জমির ওপর নির্মিত হবে নতুন এই প্রশাসনিক কেন্দ্র। মোট ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। লক্ষ্য রাখা হয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে যেন এখানে পুরোদমে দাপ্তরিক কাজ শুরু করা সম্ভব হয়। পুরনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবন ১৯৪৭ সালে নির্মাণ করা হয়। এর পাশাপাশি মসজিদ, ক্যাফেটেরিয়া, আন্ডারপাস ও ভূগর্ভস্থ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নকশার কাজ শেষ করে শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মপরিসর ও শৌচাগারের অভাব রয়েছে।

রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সংক্রান্ত নকশা ও প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, নতুন এই প্রশাসনিক কেন্দ্রে প্রায় ৩১ লাখ বর্গফুট আয়তনের অফিস স্পেস থাকবে। ভবনগুলোর নিচে নির্মিত তিনটি বেজমেন্টে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব রূপ দিতে পুরো প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য।

প্রকল্পটির স্থাপত্য নকশার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে শেরেবাংলা নগরে এই ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। তবে বৈদ্যুতিক, প্লাম্বিং ও কাঠামোগত প্রকৌশল নকশার কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন। এই প্রকল্প তৈরিতে পুরো অর্থায়ন করবে সরকার, যদিও আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে। বর্তমানে সচিবালয়ের মূল ভবনের বাইরে অবস্থানরত ১৬টি মন্ত্রণালয়কে একই স্থানে এনে কাজের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী এই সমন্বিত কাঠামোর ওপর জোর দিয়েছেন। এ জন্য ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয়টি মাত্র ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে রয়েছে ১৩টি ভবন। এর মধ্যে আটটি ভবনই নির্মিত হয়েছিল স্বাধীনতার পূর্বে। ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকায় পুরনো ভবনগুলো পর্যাপ্ত ঝুঁকি সহনশীল নয়। তা ছাড়া বর্তমানের ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট জায়গা ক্রমবর্ধমান দাপ্তরিক চাহিদা পূরণে অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। স্থানান্তরের পর বর্তমান সচিবালয়ের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ কী কাজে ব্যবহৃত হবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে পুরান ঢাকার প্রশাসনিক কাজ ও আদালত-সংক্রান্ত কিছু দপ্তর সেখানে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ঢাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় হওয়ায় এসব ভবনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম পরিচালনায় ঝুঁকি রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই বৈঠকে মন্ত্রিসভা বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম বদলে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশে ক্লিন এনার্জির উৎপাদন বাড়াতে এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চাহিদা এবং সচিবালয় কম্পাউন্ডের বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে একই স্থানে আনতে আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা প্রয়োজন।

অন্য এক প্রসঙ্গে জানা গেছে, সম্প্রতি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বনানী ও মহাখালীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। সার্বিক ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তিনি মণ্ডপগুলোতে অংশ নেন।