মুশফিকুল ফজল আনসারী: ১৫ বছরের লড়াই এক বিকেলের অনুষ্ঠানে

ওয়াশিংটন ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের এক সিনিয়র আমেরিকান সাংবাদিকের সঙ্গে সম্প্রতি এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি জানান, প্রেসক্লাবের ১৩ তলায় ভাড়া করা একটি কক্ষে গতকাল অনুষ্ঠান চলতে দেখে ওই আমেরিকান সাংবাদিক ভুলবশত ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন, ভেবেছিলেন হয়তো আনসারীর কোনো অনুষ্ঠান চলছে। কিন্তু ভেতরে গিয়ে তিনি যা দেখলেন তা ছিল অপ্রত্যাশিত। সেখানে কারা এসেছেন এবং কারা কথা বলছেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নথিবদ্ধ করা যেন আয়োজকদের কূটনৈতিক দায়িত্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরে দেখেন, সেটি বাংলাদেশের পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অনলাইন অংশগ্রহণে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’র আয়োজনে তাঁর পুত্র জয়ের একটি অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কিছু উৎসাহীকে বগল বাজাতে দেখে ভাবলাম, যে প্রেসক্লাবে আমরা কোনো অনুষ্ঠান করলেই ‘ষড়যন্ত্র’ তকমা দিয়ে দলীয় কর্মীবাহিনী আর দূতাবাসের কর্মকর্তাদের লেলিয়ে দেয়া হতো, সেই প্রেসক্লাবের ভাড়া করা কক্ষই এখন তাদের আশ্রয়। প্রেসক্লাবে কক্ষ ভাড়া করে অনুষ্ঠান করা যায়, তাতে প্রেসক্লাবের সমর্থন বা ওয়াশিংটনের স্বীকৃতি ভাড়া পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের বেশিরভাগ অনুষ্ঠানগুলো হতো সদস্যদের জন্য নির্ধারিত কমপ্লিমেন্টারি কক্ষ—ম্যাকক্লেন্ডার বা কসগ্রোভ লাউঞ্জে। প্রাইভেট ইভেন্ট হলে ওরা জানতে পারতোনা। কিন্তু পাবলিক হলেই দল বেঁধে হাজির হতো।

মুশফিকুল ফজল আনসারী এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে তার দীর্ঘ লড়াইয়ের স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন প্রেসক্লাবে এ ধরনের ভুঁইফোড় অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের অপশাসন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মতো অন্ধকার অধ্যায়গুলো উন্মোচন করতে আমাদের টানা ১৫ বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এ দীর্ঘ লড়াইয়ের বাস্তবতা কেবল একটি বিকেলের লোক দেখানো আয়োজনে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন প্রেসক্লাবে ভুঁইফোড় অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের বিগত দিনের অপশাসন, হত্যা, গুম-খুনের মুখোশ উন্মোচনে অন্তত টানা ১৫ বছর কসরত করতে হয়েছে।

এর আগে এ ধরনের ঘটনার নজির হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন উইলসন সেন্টারের কথা। সেখানে অধ্যাপক আলী রীয়াজের একটি বই নিয়ে আলোচনা চলাকালে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎকালীন উপমিশনপ্রধান মাহবুব সালেহর নেতৃত্বে যুবলীগের একদল কর্মী জোরপূর্বক অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেছিল। এমন ঘটনা প্রবাসে সুস্থ ধারার চর্চাকে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাংবাদিক আনসারী পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করতে গিয়ে হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়ার বিখ্যাত উক্তি ‘হনুজ দিল্লি দূর অস্ত’ স্মরণ করিয়ে দেন। অন্যদিকে, বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতালির রোমে বিদেশি নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় একটি স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যেখানে সাতটি বাংলাদেশি সংগঠন যুক্ত হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিতে রোমে স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ গঠন, যুক্ত হয়েছে ৭ বাংলাদেশি সংগঠন।