শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হোবার্ট হারিকেনসকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে মেলবোর্ন রেনেগেডস টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে। প্রথমে ব্যাটিং করে হোবার্ট হারিকেনস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৪ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে অধিনায়ক নিকোলা ক্যারি ৪৩ বলে ১০টি বাউন্ডারির সাহায্যে সর্বোচ্চ ৬২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এছাড়া চিনেলে হেনরি ১৮ বলে ৭ চারের সাহায্যে ঝোড়ো ৩৬ রান করেন।
টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়া রেনেগেডসের অধিনায়ক সোফি মলিনু শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে হারিকেনস শিবিরকে কাঁপিয়ে দেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৮ রানে দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। লিজেল লি ৬ রানে এবং রেচেল ট্রেনামান খাতা খুলতেই পারেননি। চামারি আতাপাত্তু ১৮ বল খেলে মাত্র ৯ রান করে জর্জিয়া ওয়েরহামের শিকার হন। দলীয় ৬৬ রানে মলিনু তার তৃতীয় উইকেট তুলে নিলে চাপে পড়ে হোবার্ট।
বল হাতে রেনেগেডসের সেরা পারফর্মার ছিলেন সোফি মলিনু। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। নির্ধারিত লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রেনেগেডস ওপেনার হেইলি ম্যাথিউসের ব্যাটে দারুণ সূচনা করে। ওলিভিয়া পর্টার ১৪ রানে আউট হওয়ার পর ম্যাথিউস ও কোর্টনি ওয়েব মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। কোর্টনি ওয়েব ২৫ বলে ২৯ রান করেন এবং হেইলি ম্যাথিউস ৪৪ বলে ৮টি বাউন্ডারিতে ৫৯ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন।
তবে মাঝের ওভারগুলোতে হেদার গ্রাহামের বোলিং তোপে পড়ে রেনেগেডস। গ্রাহাম ৪ ওভারে ২৪ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে রেনেগেডসের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। অধিনায়ক নিকোলা ক্যারি ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়ে ৯ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেটের পতন ঘটালে রেনেগেডস ১৩৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে। ফলে ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে, যেখানে জয়ের জন্য ২ বলে ৫ রান প্রয়োজন ছিল।
চাপের মুখে ডেভিসন ডটিন শেষ ওভারে অবিচল থেকে পঞ্চম বলে স্লিপের পাশ দিয়ে চার মেরে সমতা ফেরান এবং শেষ বল নো বল হওয়ায় ১৯.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৫ রান করে রেনেগেডসের জয় নিশ্চিত করেন। অসাধারণ বোলিংয়ের সুবাদে সোফি মলিনু ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।

