কিশোরগঞ্জে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পরিদর্শন করলেন এমপি মাজহারুল ইসলাম
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারিপাড়া, ঐতিহাসিক চন্দ্রাবতী মন্দির এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। সোমবার (১ জুন) দুপুরে তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সমস্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্ভোগ, কৃষিপণ্য পরিবহনের প্রতিবন্ধকতা, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অসুবিধা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রত্যাশার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে কাঁচা রাস্তার কারণে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো কাদায় পরিণত হয়, ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক সময় জরুরি রোগী পরিবহন করতেও ভোগান্তির শিকার হতে হয় এলাকাবাসীকে।
পরিদর্শন শেষে সদর উপজেলার দামপাড়া এলাকায় কয়েক শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে যোগ দেন সংসদ সদস্য। বৈঠকটি প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন পর একজন জনপ্রতিনিধিকে নিজেদের মাঝে পেয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তারা সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, নিজেদের সমস্যা তুলে ধরেন এবং স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলেন।
উঠান বৈঠকে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত কাঁচা রাস্তার দুরবস্থার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তারা দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানান। স্থানীয়দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম আশ্বস্ত করে বলেন, জনগণের ভোগান্তি দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, “আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। এলজিইডির প্রকৌশলীদের এনে রাস্তার পরিমাপ ও প্রয়োজনীয় সমীক্ষা করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের কষ্ট লাঘব করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। আপনাদের জন্য আমার বাসার দরজা সবসময় খোলা। যে কোনো সমস্যা, অভিযোগ কিংবা প্রয়োজনের কথা আমাকে জানাবেন। আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবো।”
সংসদ সদস্য আরও বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেন উন্নয়নের সুফল সমানভাবে পায়, সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে আমি এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের সংসদ সদস্যকে এই এলাকায় নিয়ে এসে আপনাদের সমস্যাগুলো তাঁর সামনে তুলে ধরবো। আজ আমি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। জনগণের প্রত্যাশা ও দাবিগুলো এখন সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছেছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাইজখাপন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে বিপুল সমর্থন দিয়েছেন। জনগণের সেই ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে আমরা এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবো।”
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মারুফ আল মোস্তফা, মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক শাহীন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন-সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, সংসদ সদস্যের এই সরেজমিন পরিদর্শন এবং দেওয়া আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন খুব শিগগিরই দেখা যাবে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কাঁচা রাস্তাগুলো পাকা সড়কে রূপান্তরিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাইজখাপন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদগুলোও দ্রুত আধুনিক যোগাযোগ সুবিধার আওতায় আসবে।

