ফেনীতে মা-মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড

ফেনীর দাগনভূঞায় মা ও মেয়েকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের সাইফুল ইসলাম, আজাদ এবং নিপু কুমার দাস। এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম জয়নাল আবেদীনের ছেলে, আজাদ মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে এবং নিপু কুমার দাস প্রভাত কুমার দাসের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আজাদ ও নিপু দাস আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাতে সাইফুল ইসলাম তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ওই প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। এ সময় ওই নারীর মা বাধা দিতে গেলে আজাদ ও নিপু তাকেও ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ১১ আগস্ট ওই প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত এ রায় প্রদান করেন। রায়ে সাইফুল ইসলাম ও নিপু কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর আসামি আজাদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সাহাব উদ্দিন আহমেদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।