ডেসকো মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিহারীদের নামে মনগড়া মামলা দায়ের ও হয়রানির প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিহারী পুনর্বাসন সংসদ (বিবিআরএস) এই কর্মসূচির আয়োজন করে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেসকোর দায়ের করা তিনটি মামলা প্রত্যাহার এবং ডেসকোর মোবাইল কোর্ট পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় স্থানান্তর করা।
গত ২৮ এপ্রিল ডেসকোর মোবাইল কোর্ট পল্লবীর তালাব বিহারী ক্যাম্পে অভিযান চালায়। সেখানে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একই স্থানে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের এবং ২৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই বিহারী ক্যাম্পে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। মিছিলটি মিরপুর ১১ নম্বরের তালাব ক্যাম্প থেকে শুরু হয়ে মিল্লাত ক্যাম্প, উল্টো বাবা মাজার ও কালশী রোড প্রদক্ষিণ করে পূরবী সিনেমা হলের পাশে অবস্থিত ডেসকো পল্লবী জোনের অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিবিআরএস-এর পল্লবী থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহতাব ভাসানী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশের (ন্যাপ বাংলাদেশ) মহাসচিব নেয়াজ আহমদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিবিআরএস-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেয়াজ আহমদ খান অভিযোগ করেন, ডেসকো আইন প্রয়োগের নামে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবসা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মিটার লাগানো থাকার পরও হুকিংয়ের অভিযোগ তোলা চরম অসততা। তার দাবি, ভূমিদস্যুদের স্বার্থে ডেসকো কাজ করছে এবং নিরীহ বিহারীদের উচ্ছেদের জন্য এসব মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি ডেসকোর কোর্ট পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় আইনজীবীর স্বল্পতা ও বিচারিক হয়রানির কারণে বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে ডেসকো আদালত স্থানান্তর ও বিচারিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অন্যতম। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘ডেসকোর মূলনীতি দুর্নীতি’, ‘মিথ্যা মামলা তুলে নাও’ এবং ‘ভূমিদস্যুদের ঠিকানা মিরপুরে হবে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেখা যায়। মোহাম্মদ জাহিদ, মোহাম্মদ ফয়সাল, আলা নুর, ইব্রাহিম চান, জাবেদ রহমান, আরমান দিল্লীওয়ালা, আনিসুর রহমান বেচু এবং শামসুদ্দিন মুন্না প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত প্রতিকার ও আইনি হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান।

