তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো আরও বাড়বে, তাই এসব মোকাবিলায় এখন থেকেই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য। অর্থনীতিকে রপ্তানিমুখী করেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য তিন বছরের বর্ধিত সময়ের আবেদন জানিয়েছে, যার ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই অতিরিক্ত সময়কে কেবল সমস্যা পেছানোর মাধ্যম হিসেবে না দেখে, বরং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগী। এই বাড়তি সময়ে প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ এবং এলডিসি-পরবর্তী নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শর্ত ও কাঠামোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশ হওয়ায় এই বর্ধিত সময় পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নেই বলেও তিনি জানান।
জাহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। জাতিসংঘের ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় থাকা প্রায় ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে দেশীয় বাস্তবতায় যেগুলো জরুরি, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বাজারে চাপ কম থাকলেও অন্যান্য গন্তব্যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। তাই সময় বৃদ্ধি নিশ্চিত করাই শেষ লক্ষ্য নয়, বরং প্রাপ্ত সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ, র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বক্তব্য রাখেন।

