বেলজিয়ামের বিখ্যাত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ এখন অতীত হলেও, বর্তমান দলটি যেন সেই সোনালি সময়েরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপের এই দলটি কোয়ার্টার-ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। সিয়াটল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধের দাপুটে পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে বেলজিয়াম।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে ইউরি টিলেমান্স একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করলেও, পরের মিনিটেই বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন শার্ল ডি কেটেলারে। নিকোলা হাসকিনের পাস থেকে বল পেয়ে তিনি লক্ষ্যভেদ করেন। এরপর ১৪তম মিনিটে লেয়ান্দ্রো ট্রোসাডের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে খেলার ধারার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র সমতায় ফিরে আসে যখন একটি ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া শট হন্স ফানাকের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে।
সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পাল্টা আক্রমণে ট্রোসাডের ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন শার্ল ডি কেটেলারে। ৪০তম মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ একটি নিশ্চিত গোল বাঁচালেও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফোলারিন বালোগনের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। উল্লেখ্য, ম্যাচের আগে ফোলারিন বালোগনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পের ফোন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও, তিনি ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তাদের খেলায় আগের মতো গতি ও আত্মবিশ্বাস দেখা যায়নি। ৫৭তম মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের ভুলে বেলজিয়াম তৃতীয় গোলটি পায়। পেছন থেকে চাপ দিয়ে বল কেড়ে নিয়ে শার্ল ডি কেটেলারে বল দেন হন্স ফানাককে, যিনি বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন। সবশেষে যোগ করা সময়ে অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকু চতুর্থ গোলটি করলে বেলজিয়ামের বড় জয় নিশ্চিত হয়। এই পরাজয়ের মাধ্যমে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।
তবে সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোল হজমের পরপরই পাল্টা আক্রমণে ওঠে বেলজিয়াম। বক্সে ট্রোসাডের দারুণ ক্রস থেকে কাছাকাছি জায়গা থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন শার্ল ডি কেটেলারে। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের সবশেষ নয় ম্যাচে এটি ষষ্ঠ গোল।
৫৭তম মিনিটে বক্সে আসা একটি লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে আনেন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে চাপ দিয়ে বল কেড়ে নেন শার্ল ডি কেটেলারে। তিনি বল বাড়িয়ে দেন হন্স ফানাকের কাছে। সেখান থেকে বাঁকানো শটে ডান কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন ফানাকে।

