রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সোহেল রানা হত্যাচেষ্টার মামলায় নওগাঁ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মো. ওমর ফারুক সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ আদেশ দেন। শুনানিকালে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি উপস্থাপন করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন ময়ূরভিলার তিন রাস্তা মোড় এলাকায় শেখ হাসিনার নির্দেশে নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ওমর ফারুক সুমন উপস্থিত থেকে তার ক্যাডার ও দলীয় বাহিনীর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর মারপিট ও জ্বালাও-পোড়াওয়ে অংশ নেন। তার বাহিনীর হামলায় আন্দোলনকারীরা গুরুতর আহত হন। আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি জামিনে মুক্ত থাকলে এলাকার সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুরে সোহেল রানা মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়ে মিছিলে অংশ নিলে শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। তাদের গুলিতে সোহেল রানা আহত হন এবং দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১১ জুন তিনি নিজেই মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ মোট ২২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, ডা. দীপু মনি, মমতাজ বেগম, শমী কায়সার এবং হারুন অর রশিদ। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর থেকেই ওমর ফারুক সুমন কারাগারে রয়েছেন।

