যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় জয়ী লেখিকা ই. জ্যাঁ ক্যারল শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পেতে যাচ্ছেন। ম্যানহাটানের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ লুইস কাপলান সাবেক এল ম্যাগাজিনের পরামর্শ বিষয়ক কলাম লেখিকা ক্যারলকে প্রায় ৫৮ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই অর্থের মধ্যে মূল ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সুদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৩ সালের এক দেওয়ানি মামলায় জুরি ট্রাম্পকে ক্যারলের প্রতি যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী সাব্যস্ত করেছিল। তবে ট্রাম্প ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় এত দিন এই অর্থ এসক্রো হিসেবে তৃতীয় পক্ষের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত ছিল। গত ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। আদালতের নয়জন বিচারপতির কেউই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। বিচারক লুইস কাপলান তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, বিবাদী বছরের পর বছর ধরে মামলাটি বিলম্বিত করেছেন, তাই এখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে অর্থ পরিশোধের সময় এসেছে।
ট্রাম্পের আইনি দল এই অর্থ বিতরণ স্থগিত রাখতে ম্যানহাটানের ফেডারেল আপিল আদালতে জরুরি আবেদন করলেও বুধবার রাতে আদালত তা খারিজ করে দেয়। ট্রাম্পের মুখপাত্র এই মামলাকে ডেমোক্রেটদের অর্থায়নে পরিচালিত তথাকথিত ‘উইচ হান্ট’ ও প্রতারণামূলক দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যারলের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, এটি মামলাটি দীর্ঘায়িত করার আরেকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা।
ই. জ্যাঁ ক্যারলের অভিযোগ ছিল, ১৯৯৬ সালের দিকে ম্যানহাটানের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক বদলানোর কক্ষে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন। ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া ও প্রতারণামূলক গল্প বলে দাবি করেছেন। যদিও জুরি ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দেয়। এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আরেকটি জুরি ২০১৯ সালের মন্তব্যের ভিত্তিতে ক্যারলকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প ওই রায় বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে আপিলের পরিকল্পনা করছেন।

