ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর ইউরো ফাইনালে স্পেন

‘এই ফ্রান্সকে কে থামাবে?’— গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে এই প্রশ্নটিই সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল। যে দলটি প্রতিটি ম্যাচেই অন্তত দুটি করে গোল করছিল, তাদের হারানো কঠিন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেল স্পেন। ফ্রান্সকে হারিয়ে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় করে দিয়েছে তারা।

ম্যাচের আগে লামিন ইয়ামাল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, ফ্রান্সের ভয় পাওয়া উচিত কারণ স্পেন তাদের আগে দুইবার হারিয়েছে। স্পেনের খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সেই নিখুঁত খেলার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০ মিনিটে মিকেল ওইয়েরজাবালকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। লুকাস দিনিয়ে তাকে লাথি মারলে পেনাল্টির সুযোগ তৈরি হয়। ওইয়েরজাবাল ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গোলরক্ষক মাইক মেনিওঁ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও গোল আটকাতে পারেননি।

এই পেনাল্টির কুশীলব ইয়ামাল পরে একবার বল জালে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু গোলটা বাতিল হলো অফসাইডে, ৩-০ হতে হতে হলো না। কিন্তু সেই বাতিল হওয়া গোলটাও যেন একটা বার্তা দিয়ে গেল ফ্রান্সের ডাগআউটে; এই স্পেনের কাছেই সমাধি রচিত হবে তাদের স্বপ্ন।

স্পেনের খেলার দর্শন ছিল স্পষ্ট— বল দখলে রাখা এবং ধৈর্যের সঙ্গে সুযোগের অপেক্ষা করা। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে বিশ্বকাপের আগে মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় দলে না টানা, আর বার্সেলোনার ৮ খেলোয়াড় দলে ডাকা নিয়ে বেশ গঞ্জনাই সইতে হয়েছিল। তিনি এই সিদ্ধান্তটা কেন নিয়েছেন, তার জবাবটা বার্সার ফরোয়ার্ডরাই দিয়েছেন। গোল পাননি, কিন্তু দুটো গোলই এসেছে তাদের কারসাজিতে। তাদের মাইনাস করে দিলে সে গোলদুটোও পায় না স্পেন!

অন্যদিকে, ফ্রান্স যেন নিজের ছায়ার সঙ্গেই লড়াই করেছে। সালিবাকে হারানোর পর তাদের রক্ষণভাগ ক্লান্ত ও বয়স্ক মনে হয়েছে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা আজ যেন মেনে নিয়েছে যে দিনটি তাদের ছিল না। ক্যাসিয়াস ও পুয়োলদের সোনালী প্রজন্মের ১৬ বছর পর আবারও শিরোপা জয়ের অপেক্ষায় লা ফিউরিয়া রোহারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor