আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত শহীদের সংখ্যা জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে আরও বাড়তে পারে। বুধবার রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান-সংলগ্ন জুলাই শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন নতুন গণকবর, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সব গণকবর পরিদর্শন করবে। ইতোমধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কয়েকটি গণকবরে দাফন হওয়া শহীদদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৮৩৪ জন জুলাই শহীদের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, রায়েরবাজারের গণকবরে ১১৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া জুরাইন, মাতুয়াইল, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের গণকবরগুলোও পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন ও নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্পর্কে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত অনেকের মরদেহ পাশের নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে হাসপাতালের নাম প্রকাশ না করলেও, তৎকালীন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অনেক হাসপাতালে নিহতদের নাম রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি এবং অনেককে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করা হয়েছে, এমনকি সুরতহাল ও ময়নাতদন্তও করতে দেওয়া হয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, প্রতিটি শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনাই তদন্ত সংস্থার প্রধান লক্ষ্য। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ সব ধরনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে যাতে কোনো অপরাধী পার না পায়।

