মার্কিন অবরোধ এড়াতে গোপন নৌ-বহর প্রস্তুত করছে ইরান

গত মঙ্গলবার বিকেলে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নৌ-অবরোধ কার্যকর করেছে। তবে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের আগেই তেহরান তাদের নৌযানগুলোকে প্রস্তুত করতে শুরু করেছে। মূলত মার্কিন বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যেই ইরান তাদের এই নৌ-বহর প্রস্তুত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘উইন্ডওয়ার্ড ইন্টেলিজেন্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে ইরানের ২৩টি জাহাজ সন্দেহজনকভাবে চলাচল করছে। এসব জাহাজ ভুয়া পতাকা ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ‘ডার্ক ভেসেল’ বা ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মতো আচরণ করছে।

পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ ফেলো আদনান মাজারেই জানান, নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে ইরানের। তারা বছরের পর বছর ধরে নামসর্বস্ব কোম্পানি, গোপনে তেল হস্তান্তর এবং অস্পষ্ট আর্থিক লেনদেনের একটি জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আসছে। এই কৌশলে তারা মূলত চীনের কাছে সবচেয়ে বেশি তেল বিক্রি করে থাকে। উইন্ডওয়ার্ডের নজরদারিতে থাকা একটি ট্যাংকারের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, এটি ইরানের খারগ দ্বীপ থেকে তেল নিয়ে সরাসরি গন্তব্যে না গিয়ে ইরাকের বসরা অয়েল টার্মিনাল হয়ে চীনের দিকে এগিয়েছে, যা তেলের আসল উৎস গোপনের একটি কৌশল।

পণ্যবাহী জাহাজ ট্র্যাক করার প্রতিষ্ঠান ‘ভোর্টেক্সা’ জানিয়েছে, চিহ্নিত ২৩টি জাহাজের মধ্যে ১০টিতে বর্তমানে তেল বোঝাই রয়েছে, যা অবরোধ ভাঙার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। বাকি ১৩টি জাহাজ বর্তমানে খালি অবস্থায় আছে। যদিও সম্প্রতি একটি সমঝোতা চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল, তবুও ‘ট্যাংকার ট্র্যাকার্স’-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরান তাদের গোপন বহর ব্যবহার বন্ধ করেনি। গত জুন মাসে তারা প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল এবং গত সপ্তাহে একদিনেই ১ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। এছাড়া বর্তমানে সাতটি বিশাল ট্যাংকার ভারত মহাসাগরে ভাসছে, যা নতুন ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছে।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) মতে, ইরান তাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৫০ শতাংশই তেল বিক্রি থেকে অর্জন করে এবং তাদের রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই চীন কিনে থাকে। আদনান মাজারেই উল্লেখ করেন, ইরানের মোট বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয় পারস্য উপসাগরের মাধ্যমে। এই অবরোধের ফলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; গত ১২ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এখন ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo