জুলাই গণ-আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী জানিয়েছেন, তারা আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি তার স্মৃতি ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারে যে আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ নতুন করে আলোর মুখ দেখেছে।
আন্দোলনের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা তার স্মৃতি এখনো বহন করছেন। মা মনোয়ারা বেগম ছেলের ছবি হাতে নিয়ে প্রায়ই কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মেধাবী আবু সাঈদকে নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল, যা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পেটোয়াবাহিনীর গুলিতে ধূলিসাৎ হয়েছে। তারা আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই ও মামলার বাদী রমজান আলী বলেন, কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড হলেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা হতাশ। মা মনোয়ারা বেগম ও বাবা মকবুল হোসেনও দ্রুত বিচার কার্যকরের মাধ্যমে খুনিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও সহপাঠী সুমন, ইমরান ও ইমতি জানান, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের আইডল ছিলেন এবং তার আত্মত্যাগ সারা দেশের যোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছে। তারা মনে করেন, মামলার রায়ে প্রকৃত অপরাধীদের প্ররোচনার বিষয়টি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তারা পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মডার্ন মোড়ের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও আখতার হোসেন আবু সাঈদকে অত্যন্ত মার্জিত ও ভদ্র হিসেবে স্মরণ করে তার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পলাতক আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, যেহেতু মামলাটি ট্রাইব্যুনালে হয়েছে, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

