পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত লোকসানি কোম্পানি ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে থাকা ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সেস। এই শেয়ার হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছে কোম্পানিটি। গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দুই পক্ষ এরই মধ্যে শেয়ার কেনাবেচার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় চাহিদাও পূরণ করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ডমিনেজ স্টিলের বর্তমান উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে থাকা ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার আকিজ রিসোর্সেসের মালিক শেখ জসিমউদ্দিন ও ফারিয়া হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শেয়ারবাজারের বাইরে সম্পন্ন হতে যাওয়া এই লেনদেনে প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ টাকা, যার মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য এবং ৩ টাকা প্রিমিয়াম। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে আকিজ রিসোর্সেস এই লোকসানি কোম্পানিতে প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো পক্ষই বিনিয়োগের অংক নিয়ে মুখ খোলেনি, তবে বাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বশেষ জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ডমিনেজ স্টিল প্রায় ৭২ লাখ টাকা লোকসান করেছে। ২০২০ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির বর্তমানে সাভারের কারখানা চালু থাকলেও নরসিংদীর কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল এবং বর্তমানে এর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা।
মালিকানা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া সামনে আসায় গত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বছরের শুরুতে ৪ জানুয়ারি যে শেয়ারের দাম ছিল ২৮ টাকা ৪০ পয়সা, তা বেড়ে বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে প্রায় ৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এই কয়েক মাসে শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ১৮২ শতাংশ। তবে মালিকানা বদলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগেই বাজারে এ সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকিজ রিসোর্সেসের উপপ্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (ডেপুটি সিএফও) রায়হান কবির জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তারা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর ডমিনেজ স্টিলের উৎপাদন পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

