ব্র্যাড পিট-অ্যানজেলিনা জোলির আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়

হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট ও তার সাবেক স্ত্রী অ্যানজেলিনা জোলির মধ্যকার দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধে নতুন নাটকীয় মোড় সৃষ্টি হয়েছে। ৬২ বছর বয়সী ব্র্যাড পিট আদালতের কাছে একটি আবেদন জানিয়েছেন, যেখানে জোলিকে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের আয়-সংক্রান্ত আর্থিক নথি জমা দেয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। মূলত, জোলি এর আগে দাবি করেছিলেন যে ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর তিনি তার ক্যারিয়ার স্থগিত রেখেছিলেন এবং বছরের পর বছর পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫১ বছর বয়সী জোলি এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের আর্থিক নথি জমা দিতে সম্মত হয়েছিলেন। তবে আদালতের নথিপত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত তিনি শুধুমাত্র ২০২০ ও ২০২১ সালের নথিই জমা দিয়েছেন। পিটের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, জোলি তার পূর্বের সম্মতি থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য গোপন রেখেছেন। ডেইলি মেইল এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

আদালতে জমা দেয়া পিটের নতুন আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জোলি তার পাল্টা মামলায় দাবি করেছিলেন যে বিচ্ছেদের পর তিনি ক্যারিয়ার থেকে বিরতি নিয়েছিলেন এবং আর্থিক সংকটের কারণে পিট তার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন। জোলির দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তিনি মনে করেছিলেন যে পিটের কাছ থেকে আর্থিক স্বাধীনতা পেতে তাদের যৌথ মালিকানাধীন শাতো মিরাভাল ওয়াইনারিতে নিজের অংশ বিক্রি করা প্রয়োজন। পিটের আইনজীবীদের দাবি, ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জোলি ২০১৭-২০২১ সময়কালের নথি জমা দেয়ার পূর্বের সম্মতি প্রত্যাহার করে নেন। এখন পিট আদালতের কাছে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের বার্ষিক আয় এবং লাভের অংশীদারির তথ্য প্রকাশের জোরালো দাবি জানিয়েছেন, কারণ জোলির দাবিকৃত আর্থিক বঞ্চনার বিষয়টি মামলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, জোলি তার আগের এক আইনি নথিতে দাবি করেছেন যে, পিট তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন। জোলির ভাষ্যমতে, আর্থিক স্বাধীনতা বলতে তিনি কোনো সাধারণ আর্থিক সংকটের কথা বোঝাননি, বরং সাবেক স্বামীর আর্থিক প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার কথাই বুঝিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আমি কখনো দাবি করিনি যে আমি আর্থিক সংকটে ছিলাম। জোলির দাবি, পিট ভুলভাবে দাবি করছেন যে তিনি নিজেকে আর্থিকভাবে কোণঠাসা অনুভব করেছিলেন, যা আসলে পিটের নিজস্ব শব্দবন্ধ। জোলির আইনজীবীদের মতে, তিনি যে গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করাতে চেয়েছিলেন, তা মূলত তার এবং সন্তানদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার একটি কৌশল ছিল।

জোলির আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন যে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের আর্থিক নথি প্রকাশে বাধ্য করা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন। তাদের মতে, জোলি এরই মধ্যে ২০২০ ও ২০২১ সালের কর ও আয়-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, যা এই মামলার জন্য যথেষ্ট এবং আগের সময়ের নথি চাওয়া সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত