ডিজিটাল পেমেন্ট ও ক্যাশলেস ব্যবস্থার অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলেছেন ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পালন করা সাব্বির আহমেদ জানান, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সময় ডিজিটাল লেনদেনে সাময়িক স্থবিরতা এলেও দ্রুতই তা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক বা ক্রস-বর্ডার লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সুবিধা সীমিত করায় আন্তর্জাতিক লেনদেন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক লেনদেনের ৭০ শতাংশ এখনো নগদ টাকায় সম্পন্ন হয় এবং বাকি ৩০ শতাংশ ডিজিটাল মাধ্যমে হয়। তবে এই অনুপাত ভবিষ্যতে উল্টে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন সাব্বির আহমেদ। তিনি জানান, দেশে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন প্রতিবছর ২০ শতাংশেরও বেশি হারে বাড়ছে। দেশের ক্রেডিট কার্ড বাজারের ৭২ শতাংশ বর্তমানে ভিসার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ১৭ কোটি মানুষের দেশে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা মাত্র ২৫ থেকে ২৬ লাখ, যা প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যার বিবেচনায় মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের মতো। ভিসা আগামী পাঁচ বছরে এই ডিজিটাল গ্রাহকসংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
পেমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করতে ভিসা ‘ট্যাপ অ্যান্ড পে’ বা স্পর্শহীন প্রযুক্তি চালু করেছে। বর্তমানে প্রতি ১০টি কার্ড পেমেন্টের মধ্যে ৬টিই এই প্রযুক্তিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক পিন ছাড়া ট্যাপ করার সীমা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ‘ভিসা একসেপ্ট’ নামের একটি প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে কাজ চলছে, যা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের জন্য ডিজিটাল লেনদেনে অংশগ্রহণ সহজ করবে।
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসা প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। গ্রাহক নিরাপত্তার জন্য ওটিপি জালিয়াতি রোধে ‘পাস-কি’ প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে, যা স্মার্টফোনের ফেস আইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করবে। এছাড়া গুগল পে সেবা চালুর পাশাপাশি অ্যাপল পে নিয়েও কাজ চলছে। সাব্বির আহমেদ জানান, বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ওয়ালেটগুলোকে ভিসা প্রতিযোগী মনে করে না, বরং সহযোগী হিসেবে দেখছে, কারণ কার্ড থেকে ওয়ালেটে টাকা যুক্ত করার প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে ভিসা বাংলাদেশে ৪০ বছর ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

