সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ইটভাটা দখলের মামলা

কিশোরগঞ্জে একটি ইটভাটা জবরদখল ও ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাবেক আইজিপি ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন রুবেল বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমল গ্রহণকারী আদালত-৫) আদালতে এই মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক মো. এমরান অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর মীরের পাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে ওমর নূর অমিত (৩৬), নজরুল ইসলাম (৫০), পারভেজ খান (৩৫) এবং আমজাদ হোসেন লিটন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের মালিকানাধীন ‘বিশ্বাস ব্রিকস লিমিটেড (বিবিএল)’ নামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে লিজ নিতে বাদীকে প্রলুব্ধ করেন সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ। প্রতারণার ফাঁদ বুঝতে না পেরে সালাহ উদ্দিন রুবেল ৪৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ৫ বছরের জন্য ভাটাটি ভাড়া নেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিত্যক্ত ভাটাটি সচল করতে বাদী প্রায় ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগ, নতুন কিলিং নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি কেনায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। ২০২০ সালে ইট উৎপাদন শুরু হলে ভাটাটি লাভজনক অবস্থায় পৌঁছায়। ২০২০-২১ মৌসুমে সেখানে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদ মজুত ছিল। এই বিপুল সম্পদের দিকে নজর পড়ে আসামিদের। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইটভাটায় হামলা চালায় এবং বাদীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে।

উচ্ছেদের সময় সন্ত্রাসীরা বাদীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর কটিয়াদী শাখার মেসার্স রুবেল মটরস ও বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্মের বেশ কিছু অলিখিত চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয় বলে মামলায় বলা হয়েছে। ঘটনার পর নূর মোহাম্মদের দ্বারস্থ হলে তিনি বিনিয়োগকৃত টাকা ও চেক ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে ১ ও ২ নম্বর আসামি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইটভাটা ভাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, যার ফলে প্রাণ রক্ষার্থে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং পিবিআইকে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর কটিয়াদী শাখার মেসার্স রুবেল মটরস (হিসাব নং-৭৫০) এবং বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম (হিসাব নং-১২৬৮)-এর বেশ কিছু অলিখিত চেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।