মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা নির্বাচনী হস্তক্ষেপের অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন এবং চীনকে হেয় করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের এই অভিযোগগুলোর পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের অভিযোগ কেবল চীনকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।
এর আগে, একটি প্রাইমটাইম ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ২০২০ সালের নির্বাচনী চক্র থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ২২০ মিলিয়ন ভোটারের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি একে ইতিহাসের 'নির্বাচনী তথ্যের বৃহত্তম আপস' বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প একই সাথে গোয়েন্দা তথ্য ডিক্লাসিফাই করার ঘোষণা দেন, যা তার দাবি অনুযায়ী মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং দুর্বলতা প্রকাশ করবে।
এই অভিযোগের জবাবে লিন জিয়ান বলেন, চীন বরাবরই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে আসছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, 'চীনের মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনো আগ্রহ নেই এবং তারা কখনো এমনটি করেনি।' লিন আরও যোগ করেন, অতীতেও এই ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
চীনের এই মুখপাত্র উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই নজরদারি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কে বিশ্বজুড়ে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে নজরদারি চালায় এবং অন্য দেশের নাগরিকদের তথ্য বড় আকারে হাতিয়ে নেয়?
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ভাষণে সিআইএ-র একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে চীনের নেতৃত্ব তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তার নির্বাচনী সম্ভাবনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে রয়েছে।

