ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভার উপকূলে ২৭১ জন আরোহী নিয়ে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ৩৯ জন যাত্রী। আগুন লাগার পর জাহাজে আটকে পড়া শতাধিক মানুষকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল ও কাছাকাছি থাকা জাহাজগুলো যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা 'বাসারনাস' জানিয়েছে, 'মুতিয়ারা সেন্টোসা-২' নামের এই ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের দিকে যাচ্ছিল। ফেরিটিতে ৩৯ জন ক্রু এবং ২৩২ জন যাত্রীসহ মোট ২৭১ জন আরোহী ছিলেন। এ ছাড়া এতে ১৮১টি যানবাহন (যার বড় অংশই ট্রাক) এবং একটি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) পরিবহন করা হচ্ছিল। সাধারণত এই দীর্ঘ সমুদ্রপথটি অতিক্রম করতে প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে।
গত রবিবার সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সুমেনেপ রিজেন্সির উপকূলীয় জলসীমায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিটি অ্যাটোসিম লামপুং পেলায়ারান বিষয়টি সুরাবায়ার উদ্ধার কার্যালয়কে অবহিত করে। বাসারনাসের তথ্য অনুযায়ী, ফেরির ক্যাপ্টেন প্রথমে মাদুরা দ্বীপের উত্তর প্রান্তের কাছে আগুন লাগার কথা জানালেও পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে বুরুয়ান সাপুদি দ্বীপের প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ফেরিটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। কাছাকাছি থাকা 'মেরাতুস প্রজেক্ট-৩' নামের একটি মালবাহী জাহাজের মাধ্যমে এই অবস্থান নিশ্চিত করা হলেও দাহ্য পণ্য বহন করায় জাহাজটি ফেরির খুব কাছে যেতে পারেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাসারনাসের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফেরির এক পাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হয়ে পুরো জাহাজকে ঢেকে ফেলেছে। লাইফ জ্যাকেট পরা আতঙ্কিত যাত্রীরা ডেকের ওপর জড়ো হয়ে উদ্ধারের অপেক্ষা করছিলেন এবং প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ সাগরে ঝাঁপ দেন। পরবর্তীতে একটি টাগবোট ও নিকটবর্তী অন্য একটি জাহাজ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া যাত্রী আহমাদ আবদুল করিম জানান, ফেরির নিচের ডেকে থাকা একটি ট্রাক থেকে সম্ভবত আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি বলেন, 'নিচতলা থেকে একজন এসে আগুন লাগার খবর দেন। আমরা নিচে গিয়ে দেখি দুটি গাড়ি ইতিমধ্যে জ্বলছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আধা ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সবাইকে ফেরির সামনের অংশে চলে যেতে বলা হয়।'
দুর্ঘটনাকবলিতদের সহায়তায় সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হলেও সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সুমেনেপ উদ্ধারকেন্দ্র থেকে পাঠানো একটি দ্রুতগতির নৌযান উত্তাল সাগর ও বড় ঢেউয়ের কারণে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী একটি যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করেছে। উল্লেখ্য, ১৬০ মিটার দীর্ঘ এই ফেরিটি ১৯৯২ সালে জাপানে নির্মিত হয়েছিল, যা পূর্বে 'ফেরি ওসাকা' নামে ওসাকা-শিনমোজি রুটে চলাচল করত। ২০১৫ সালে এটি ইন্দোনেশিয়ার কাছে বিক্রি করা হয়।

