সাদিক অ্যাগ্রোর জালিয়াতি: দেশি গরুকে বিদেশি সাজিয়ে প্রতারণা

কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু আমদানি করত সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেড। এছাড়া ভুটান ও নেপাল থেকে ছোট আকৃতির ‘ভুট্টি’ গরুও চোরাই পথে এনে বাজারে বিক্রি করা হতো। শুধু চোরাচালান নয়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দেশি গরু-ছাগলকে ‘বিদেশি’ ও ‘উচ্চবংশীয়’ হিসেবে প্রচার করে উচ্চমূল্যে বিক্রির প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে।

২০২৪ সালের ঈদুল আজহার আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ‘উচ্চবংশীয়’ ছাগল কিনে আলোচনার জন্ম দেন। ওই ঘটনার পরই প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে চলে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সিআইডি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার আসামি সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন বর্তমানে কারাগারে থাকলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম পলাতক রয়েছেন।

সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি চোরাচালান, প্রতারণা, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মোট ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মানি লন্ডারিং করেছে। তদন্তে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৬৮ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রায় ৮৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচার, সরকারি খাল ও সড়ক দখল এবং অনুমোদনহীন ব্রাহমা গরু আমদানির অভিযোগও রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০টি গাভিন ব্রাহমা হিফার গরু আমদানির অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, সাদিক অ্যাগ্রো ভুয়া আমদানি অনুমতিপত্র তৈরি করে ১৮টি ব্রাহমা গরু দেশে নিয়ে আসে। বিমানবন্দরের লাইভস্টক কোয়ারেন্টিন স্টেশনের এক কর্মকর্তার সই জাল করে এই জালিয়াতি করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির আর্থিক অপরাধ বিভাগের পরিদর্শক মো. ছায়েদুর রহমান জানান, সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ২০২৪ সালের ২৭ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) খাল ও সড়কের জায়গায় থাকা সাদিক অ্যাগ্রোর স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালালেও, প্রতিষ্ঠানটি এখনো সেই অবৈধ দখল ছাড়েনি। বর্তমানে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ে মূল সড়কের পাশেই তাদের খামার ও বেকারির দোকান সচল রয়েছে। খামারের এক কর্মচারীর তথ্যমতে, সেখানে এখনো প্রায় ১০০টি দেশি-বিদেশি গরু রয়েছে, তবে মালিক কারাগারে থাকায় বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হয়েছে।